এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দলটি জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে তারা দুর্নীতির সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করবে না এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সুদূরপ্রসারী সংস্কার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকালে এ কঠোর অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন, দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি মনে করে, সুশাসন উন্নয়নের মূল ভিত্তি। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি হবে ইনসাফ। সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ, দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে, দুর্নীতি ও অর্থপাচার দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা বিএনপির সুশাসন দর্শনের মূল। দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণর হবে সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার।’
বিএনপির সুদূর প্রসারী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে মুক্তি পায় দাবি করে দলটির ঘোষিত ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপি ২০০১ সলে যখন ক্ষমতা গ্রহন করে তখন দেশটি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল, ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়, তার অনেক আগেই বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের অপবাদ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইপার হিসেবে স্বীকৃতি পায়।’
ইশতেহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোনো আপস করবে না। সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। উন্মুক্ত দরপত্র, রিয়েল টাইম অডিট, প্রকল্পের ‘পারফরম্যান্স অডিট’ এবং সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থপাচার রোধ ও ফ্যাসিবাদী আমলের পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
আইনের শাসনের নামে কোনো প্রকার কালা-কানুনের শাসন কিংবা বেআইনি নিপীড়ন গ্রহণযোগ্য হবে না, দলটির এমন শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করে ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে। জুলাই-আগস্ট-২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানসহ ফ্যাসিস্ট আমলের মানবতা বিরোধী অপরাধের সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।
সে সকল হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধান শুরু করে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মেধাভিত্তিক মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ পড়তে স্বচ্ছভাবে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।’
এমনকি প্রশাসনিক সংস্থার কমিশন গঠন ও পিএসসি-কে শক্তিশালীকরণ, জবাবদিহিমূলক ও দলীয়করণমুক্ত জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত বিচার প্রাপ্তি ও বিচার সেবার আধুনিকায়ন করা হবে।
বিচারপতি নিয়োগ আইন প্রণয়ন ও জুডিশিয়ান কমিশন গঠন করা হবে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে পুলিশকে জনবান্ধব ও সেবাবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অনলাইন অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পুলিশ কমিশন আইন পুনঃনিরীক্ষণ করা হবে।