এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দেশের নাজুক অর্থনীতির উন্নতি ও বেকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির অঙ্গীকার করেছে দলটি।
একই সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে আইসিটি খাতকে উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এজন্য নির্বাচনি ইশতেহারে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল খাত নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এআই, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হাব: বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার উৎপাদনের কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। সাইবার নিরাপত্তা ও এআইসহ বিশেষ পাঁচটি খাতে দুই লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে আট লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।
দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট: দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সাবমেরিন ক্যাবল এবং লো-অরবিট স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ৯৯ দশমিক ৯৯৯ শতাংশ নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা চালু করা হবে।
‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগ: দেশীয় সফটওয়্যার, অ্যাপ ও হার্ডওয়্যার পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগ জোরদার করা হবে।
সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা: জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র স্থাপনসহ শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। একই সঙ্গে সাইবার বুলিং ও নাগরিক তথ্য সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি: পেপ্যালসহ আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা চালু এবং জাতীয় ই-ওয়ালেট চালুর মাধ্যমে ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে।
এআই-চালিত ডাটা সেন্টার: এআই-নির্ভর ডাটা সেন্টার ক্যাম্পাস, এজ ডাটা সেন্টার এবং ক্লাউড প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা হবে।
স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনে সহায়তা: উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ বছরের করমুক্ত সুবিধা, ভর্তুকিযুক্ত ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হবে।
জাতীয় ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম: স্টার্টআপে বিনিয়োগের জন্য নাগরিক ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণে আইনি কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে।
উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ও সাশ্রয়ী সেবা: টেলিকম খাত উন্মুক্ত করে প্রতিযোগিতা বাড়ানো হবে, ফলে ইন্টারনেট সেবার মূল্য কমবে।
তারেক রহমান বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর, কর্মসংস্থানমুখী ও উদ্ভাবনী অর্থনীতিতে রূপান্তর করা হবে।