এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে ভোটকে ঘিরে দেখা যাচ্ছে দুটি দিকের চিত্র—একদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরে বিদায়ের প্রস্তুতি। কেউ কেউ ইতোমধ্যেই অফিস ছাড়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন, আবার কেউ কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা সরকারি বাসভবন এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দিতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে দুজন উপদেষ্টা সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে বাসাটি বুঝে নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন।
অন্যদিকে অন্তত ১৩ জন উপদেষ্টা ও একজন চুক্তিভিত্তিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, “যত দিন দায়িত্বে থাকব, তত দিন লাল পাসপোর্ট কাছেই রাখব, বিদায়ের সময় সরকারি সব জিনিসপত্রের সঙ্গে জমা দেব।”
অনেকে স্টাফদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত নথি ও সামগ্রী ইতোমধ্যেই সরকারি দপ্তর থেকে বাসায় সরিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে যাতে সহজে হস্তান্তর করা যায় এবং সরকারি কাজকর্মে কোনো জটিলতা না হয়, তাই সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ইতোমধ্যেই সরকারি বাসা ছাড়ার চিঠি দিয়েছেন। আরও কয়েকজন উপদেষ্টা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, লাল পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া হলো—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা। নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট অকার্যকর হয়ে যায়।
এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন উপদেষ্টা নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন বা আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
* অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ * খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার * শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার * আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল * গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান * বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান * প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার * মুক্তিযুদ্ধ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক * মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার * বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তাদের উদ্যোগ নতুন সরকারের জন্য দ্রুত ও স্বচ্ছ দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
এ ছাড়া লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা শারমীন এস মুরশিদ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এ ছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও তার লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
একাধিক উপদেষ্টার পিএস জানান, কোনো কোনো উপদেষ্টা এরই মধ্যে নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন। পাসপোর্ট পাওয়ার ‘হ্যাসল’ থেকে রক্ষা পেতেই মূলত তারা নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন।