এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটি।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার গঠন করা হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ নতুন এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার কাঠামোও প্রায় চূড়ান্ত। এতে দলের সিনিয়র ও অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদেরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রশাসনে গতিশীলতা আনা, নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সংযোজন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি; এসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, ২০০১–২০০৬ মেয়াদের সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন মন্ত্রীকেও এবারের মন্ত্রিসভায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে অতীতে যেসব মন্ত্রণালয় তুলনামূলকভাবে বিতর্কমুক্ত ছিল এবং যেসব নেতার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে, তাদের নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদে নতুন মুখ, টেকনোক্র্যাট কোটায় চমক
মন্ত্রিপরিষদে একাধিক নতুন মুখ যুক্ত করতে যাচ্ছে বিএনপি। এদের মধ্যে প্রায় সবাই অপেক্ষকৃত তরুণ বা কমবয়সী। এদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
পাশাপাশি বিএনপির আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র-বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র (প্রতিমন্ত্রী) মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্থায়ী কমিটর সদস্য ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হতে পারে বলে জোর আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়াকে অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে। একইসঙ্গে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অথবা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদকে আইন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হতে পারে বলে বিবেচনা করছে দলটি।
থাকবেন অভিজ্ঞরাও
বিএনপির দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। ২০০১ সালে তিনি ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এবার তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। যদিও তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন এমন আলোচনাও রয়েছে। তবে সেটি যেহেতু সময়সাপেক্ষ, তাই ততদিন হয়তো মন্ত্রিপরিষদেই রাখা হবে তাকে।
পাশাপাশি অভিজ্ঞদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; ড. আব্দুল মঈন খানকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, স্থায়ী কমিটির সদস্য এ ছাড়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে পররাষ্ট্র অথবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, মির্জা আব্বাসকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।
আলোচনায় আরও যারা
দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি সমাজ কল্যাণমন্ত্রী হিসেবে আবদুস সালাম পিন্টুর নামও শোনা যাচ্ছে।
আলোচনায় আছেন সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকতুল্লাহ বুলু এবং রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
একইভাবে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জোর আলোচনায় রয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল ও আজিজুল বারী হেলাল ও ব্যারিস্টার মীর হেলালের নাম। এছাড়া বিএনপির নারী নেত্রীদের মধ্যে শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল, তাহসিনা রুশদীর লুনা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দমন-পীড়নের সময় সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করা দলগুলোকেও সুসময়ে বঞ্চিত করছে না বিএনপি। এ ব্যাপারে বিএনপি আগেই জানিয়েছিল যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে তারা। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদে থাকছেন যুগপৎ আন্দোলনের একাধিক নেতা।
এর মধ্যে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, ১২-দলীয় জোট-প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছেন।
এর মধ্যে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, ১২-দলীয় জোট-প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছেন।
কে হবেন স্পিকার?
স্প্রিকার হিসেবে শোনা যাচ্ছে বিএনপি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের নাম। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সাবেক স্প্রিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে।
সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভা
সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথমে শপথগ্রহণ করবেন। এরপর স্প্রিকার নির্বাচন এবং সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং মতামতের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পর তার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। মন্ত্রিসভায় কতজন থাকবেন বা সরকারের আকার ঠিক কতটা বড় বা ছোট হবে সেটি নির্ধারণ করবে বিজয়ী দল।