সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৩৫:২০

এবার যে ঘোষণা দিয়ে ফের তুমুল আলোচনায় ১১ দলীয় জোট

এবার যে ঘোষণা দিয়ে ফের তুমুল আলোচনায় ১১ দলীয় জোট

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিলেও দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট। 

সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে শক্তিশালী করতে তারা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব উপস্থাপনের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল রোববার ১১ দলীয় জোটের অন্যতম দুই নেতা সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও এনসিপির নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিষয়টি জানান। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ ঘোষণা দেওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। 

এ বিষয়ে রোববার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়কারী হামিদুর রহমান আজাদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে অনেকেই মত দিচ্ছেন এবং আলোচনা চলছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোহাম্মদ শিশির মনির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করব ইনশাআল্লাহ।’ অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’ এই দুই নেতার ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়।

জোটের নেতারা বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে ছায়া মন্ত্রিসভা একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক চর্চা। এর মাধ্যমে খাতভিত্তিক মুখপাত্র নির্ধারণ করা হয়, যারা সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। 

এতে নীতি-আলোচনা স্পষ্ট হয় এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি বাড়ে। জোটের পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার ও পররাষ্ট্রসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ ও আলোচিত নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তারা নিয়মিত ব্রিফিং, প্রতিবেদন ও নীতিপত্র প্রকাশ করবেন বলেও জানা গেছে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা কেমন হবে, জানতে চাইলে মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমকে বলেন, গঠনমূলক গণতান্ত্রিক রাজনীতি রয়েছে যেসব দেশে, সেসব দেশে সরকার যে মন্ত্রিসভা গঠন করে, বিরোধী দলও সমান্তরাল ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে। ছায়া মন্ত্রিপরিষদের কাজ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করা ও গঠনমূলক সমালোচনা করা। ‘যা ভালো তা ভালো বলবে, যা সমালোচনার তা সমালোচনা করবে। সঠিক কোনটি, সেটা আমরা তুলে ধরব।’

তিনি আরও বলেন, যেসব দেশে পরিণত গণতন্ত্র রয়েছে, সেখানে এ পদ্ধতি চালু আছে। বিরোধী দল গঠনমূলকভাবে দেশ গঠনে কাজ করতে চাইলে তাদেরও সহযোগিতা করা উচিত। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং দেশের মানুষ উপকৃত হবে।

তথ্যমতে, ছায়া মন্ত্রিসভা সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি কাঠামো, যা ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতিতে জনপ্রিয়। এতে প্রধান বিরোধী দল সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ‘ছায়ামন্ত্রী’ নিয়োগ দেয়। যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশে এ ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, সরকারের সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ, বিকল্প বাজেট প্রস্তাব, প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ, দুর্নীতি বা অসংগতি জনসমক্ষে আনা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি।

যুক্তরাজ্যের সরকারনীতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর গভর্নমেন্ট (আইএফজি)’ এক নিবন্ধে জানিয়েছে, সরকারের প্রতিটি পদের বিপরীতে ছায়ামন্ত্রী থাকেন না। অর্থাৎ সরকার ৩০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করলে বিরোধী দলও একইসংখ্যক ছায়ামন্ত্রী নিয়োগ করবে, বিষয়টি এমন নয়। অনেক সময় নির্দিষ্ট নীতি বা গুরুত্বপূর্ণ খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ছায়ামন্ত্রী নিয়োগ করা হয়। এতে বিরোধী দলের আগ্রহের ক্ষেত্র ও সরকারের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়।

বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের দ্বিতীয় পরিচ্ছদে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। সেখানে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। দেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলকে সাধারণত সংসদে বিলের বিরোধিতা এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে দেখা যায়। তবে কোনো নীতির সমালোচনায় তথ্যভিত্তিক যুক্তি উপস্থাপনের প্রবণতা তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে