মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:৩০:১০

সুখবর ডিম ও মুরগির বাজারে

সুখবর ডিম ও মুরগির বাজারে

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : রমজান শুরুর আগেই রাজশাহীতে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খেজুরের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মরিচের। দুইদিন আগে যে মরিচ ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছিল তা এখন ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বেগুনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

সোমবার ও মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজারের সবজি ও মুদি দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

সাহেববাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছোলা ১২০ থেকে ১৩০ কিংবা ১৩৫ টাকার মধ্যে ছিল বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। ছোট মসুরের ডাল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, মোটা মসুরের ডাল ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, বড় মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ছোট মুগ ডাল কেজিতে বেড়েছে অন্তত ২৫ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।  

তারা জানান, বাজারে খোলা আটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, খোলা ময়দা ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা চিনির মধ্যে সাদা ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও লাল চিনি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তবে, খুচরা পর্যায়ে দামে তেমন একটা হেরফের হয়নি। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা ও প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা, পাম সুপার ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

রমজানের আরেক অত্যাবশ্যকীয় পণ্য খেজুর। সাহেববাজারে খেজুর (জাহিদী) প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। একমাস আগে এই জাতের খেজুর ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাসের ব্যবধানে কেজিতে জাহিদী খেজুরের দাম বেড়েছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। ইরানি মরিয়ম খেঁজুর প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত। একমাস আগে এই জাতের খেজুর ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাসের ব্যবধানে উন্নতমানের ইরানি মরিয়ম খেজুরের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর কালমি মরিয়ম খেঁজুর প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়, যা একমাস আগে ৭০০ টাকায় বিক্রি হতো। সুক্কারি জাতের খেজুরের দামও মাসের ব্যবধানে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৮০০ টাকা হয়েছে।

আজুয়া, বরই, দাবাস, মাবরুম, মেডজুল ও আম্বারাসহ প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম মাসের ব্যবধানে কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি আজুয়া খেজুর ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা, বরই ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দাবাস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, মাবরুম ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং আম্বারা ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  
মুন্না এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মহসিন মোল্লা বলেন, “একমাস আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম ১০০ টাকার ওপরে বেড়েছে। সরকার শুল্ক কমালেও সিন্ডিকেট তো ভাঙতে পারেনি। আমরা কম দাম না কিনতে পারলে কম দামে বিক্রি করবো কীভাবে?”

বাজারে সাদা মুরগির ডিম প্রতিহালি বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা। লাল ডিম ৩২ থেকে ৩৬ এবং দেশি মুরগির ডিম ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোয়েল পাখির ডিম ১২ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।  

গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও বাজারে মুরগির দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার প্রতিকেজি ১৮০ টাকা, সোনালী ৩০০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, দেশি ৫৪০ থেকে ৫৮০ টাকা, লেয়ার লাল ৩০০ টাকা এবং সাদা লেয়ার মুরগি ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 

শবে বরাতের আগেরদিন গরুর মাংস হাড়ছাড়া প্রতিকেজি ৮০০ টাকা এবং হাড়সহ ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে, খাসির মাংসের দাম প্রতিকেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারে আকারভেদে প্রতিকেজি রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, কাতলা মাছ ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ও শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বেলে ও আইড় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ট্যাংরা প্রতিকেজি ৬০০ টাকা, শোল মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা, চাষের কই ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা এবং গলদা চিংড়ি বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে।

সবজি বিক্রেতারা জানান, সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও বেশকিছু সবজির দাম বেড়েছে। দুইদিন আগে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দামও চড়া। এখানে মানভেদে বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে- মুলা ৩০, বাঁধাকপি ৩০, ফুলকপি ৩০, শিম ৩০ থেকে ৮০, শসা ৮০ এবং টমেটোর ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

মিষ্টিকুমড়া প্রতিপিস ৫০ টাকা, করলা ১২০ টাকা কেজি, মটরশুঁটি ৮০ টাকা কেজি, গাজর ৪০ টাকা কেজি, বরবটি ৬০ টাকা কেজি ও লাউ ৬০ টাকা পিসে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি দেশি রসুন ২৩৫, চায়না রসুন ২০০ থেকে ২২০ টাকা, ভারতীয় আদা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, চায়না আদা ২২৫ টাকা, দেশি আদা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, “নির্বাচনের পরের দুইদিনও কাঁচামরিচ ৮০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। সোমবারে মরিচের দাম ওঠে ১৩০ টাকা। মঙ্গলবারে তা ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারিতে মরিচ কেনা লেগেছে ১৭০ টাকা কেজিতে। ভালো মানের বেগুনও কিনতে হয়েছে ৭০ টাকা কেজিতে। শশার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।” 

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে