এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন সিরাজগঞ্জের রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট শিল্পপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুরে ১৯৫০ সালের ১০ মে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তার বাবা প্রখ্যাত আইনজীবী ও বাংলার মুসলিম জাগরণের অন্যতম নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ছিলেন সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ-সদস্য। ছিলেন অবিভক্ত বাংলার পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি এবং তদানীন্তন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে অনার্স ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন টুকু। ছাত্রজীবনে তিনি প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতিসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ দেশের প্রতিটি প্রধান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১/১১ সরকারের সময় সপরিবারে কারাগারে ছিলেন।
আওয়ামী লীগের করা একাধিক মামলা, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিএনপি ছেড়ে যাননি। বরং দলের নেতাকর্মীদের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে নির্দেশনা মেনে চলেছেন দলের হাইকমান্ডের। কর্মজীবনে একজন সফল ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি টুকু। তিনি তিনি অ্যাপেক্স উইভিং অ্যান্ড ফিনিসিং মিলস্ লি., অ্যাপেক্স ট্রেড অ্যান্ড কমার্স লি., অ্যাপেক্স ইনফোটেক লি., অ্যাপেক্স একসেসরিস লিমিটেডের ব্যস্থাপনা পরিচালক এবং হোম টেক্সটাইল লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অ্যাপেক্স ট্যানারি লি., অ্যাপেক্স ফুড লি. এবং অ্যাপেক্স স্পিনিং ও নিট মিলস্ লিমিটেডের পরিচালকও ছিলেন। টুকু ঢাকা শিল্প ও বণিক সমিতি এবং বাংলাদেশ শিল্পঋণ সংস্থার পরিচালক ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ পুলিশ কমিশনের সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর) আসনে চারদলীয় ঐক্যজোটের বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এর আগে তিনি চতুর্থ ও পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। তিনি চার দলীয় জোট সরকারের সময় প্রথমে বিদ্যুৎ এবং পরে কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি রাষ্ট্রীয় সফর এবং বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য প্রতিনিধি ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ইতালি, আর্জেন্টিনা, চীন, জাপানসহ বহুদেশ সফর করেছেন।
মরহুম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বড় ছেলে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সাহসী রাজনীতিবিদ হিসাবে সিরাজগঞ্জে খ্যাতি রয়েছে তার। টুকু ও স্ত্রী রুমানা মাহমুদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। রুমানা মাহমুদ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনয়নে সিরাজগঞ্জ-২ থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। টুকুর ছোট ভাই মঞ্জুর হাসান মাহমুদ খুশিও বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৮৯ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।