শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১০:২৪:২৬

একদিনের ব্যবধানে গরুর মাংস-ব্রয়লার মুরগির কেজি কত হলো জানেন?

একদিনের ব্যবধানে গরুর মাংস-ব্রয়লার মুরগির কেজি কত হলো জানেন?

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : রমজান ঘিরে বাজারে বেপরোয়া অসাধু চক্র। তাদের কারসাজিতে প্রতিদিনই বাড়ছে পণ্যের দাম। ছোলা, চিনি, পেঁয়াজ ও ডালের পর এবার গরুর মাংসের দাম বাড়ানো হয়েছে। কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগিতেও যেন রেহাই নেই। বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা বাড়তি দরে। আর অন্যান্য মুরগির দাম বেড়েছে ২০-৫০ টাকা। 

বাজারে মাছের দামেও চড়া ভাব। পাশাপাশি শসা, লেবু ও বেগুনের দামও ১০০ টাকার উপরে গিয়ে ঠেকেছে। ফল যেন চলে যাচ্ছে নাগালের বাইরে। ইফতারে পাতে ফল জোগাতে একটি-দুটি করে ওজন দিয়ে কিনছেন ক্রেতা। সব মিলে রোজার বাজারে পণ্য কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে ভোক্তার।

খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৮৫০ টাকা। যা একদিন আগেও ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকা। যা আগে বিক্রি হয়েছে ১৭০-১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৪০ টাকা। যা ৭ দিন আগে ৩০০-৩২০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগেও ৫০ টাকা কম ছিল। আর খাসির মাংস সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর নয়াবাজারে মাংস কিনতে আসা মো. সালাউদ্দিন বলেন, রোজা শুরুর আগের দিন ৭৫০ টাকায় গরুর মাংস কিনেছি। আজ বিক্রেতারা ৮০০ টাকা চাইছে। আর হাড় কম দিয়ে ৮৫০ টাকা দাম হাঁকছে। তাই ব্রয়লার মুরগি কিনে বাড়ি ফিরছি। এতেও স্বস্তি নেই। কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা দাম বাড়তি।

মাছের বাজারেও ক্রেতার স্বস্তি নেই। মাঝারি আকারের রুই প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪২০ টাকা। কাতলা ৩৮০-৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া কেজি ২২০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ আকারভেদে কেজি ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৫৫০-৬৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি চিংড়ি ৮০০-১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, প্রতিবছর রোজার আগে অসাধুদের কারসাজির কৌশল ওপেন সিক্রেট। তবুও সবাই যেন নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকে। তদারকি সংস্থাগুলো বাজারে মনিটরিং করছে না তাও বলা যাবে না। তবে ফলপ্রসূ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এমনকি গত ২ দিনে বাজারে তদারকি করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। এছাড়া দেশে পণ্যের মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও রোজার আগেই মূল্য বাড়িয়ে ভোক্তাকে নাজেহাল করে ফেলেছে। তাই বাজারে নির্বাচিত সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এতে ক্রেতারা স্বস্তি পাবে।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গোল শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা। যা ৭ দিন আগে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি হালি (৪ পিস) লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা। যা ৫ দিন আগে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর ১ সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। যা কিছুদিন আগেও ৬০-৭০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি মুড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। যা ২ সপ্তাহ আগে ৭০-৮০ টাকা ছিল। এদিকে রোজার আগেই ফলের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার প্রতি কেজি আপেল বিক্রি হয়েছে ৩৬০-৪০০ টাকা। যা ২ দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৩০০-৩৪০ টাকা। মালটা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩২০-৩৬০ টাকা। যা আগে ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি বরই ২০ টাকা বেড়ে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাগরকলা প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। যা আগে ১২০ টাকা ছিল।

কাওরান বাজারে ফল কিনতে আসা মো. শাকিল বলেন, ফলের দাম এমনিতেই অনেক বাড়তি। তাই আগেও বাসায় ফল নিয়ে ছেলেমেয়েদের খাওয়াতে পারিনি। তবে রোজা রেখে ইফতারে ফল না হলে চলে না। যে কারণে ফল কিনতে এসেছি। তবে দাম আরও বাড়তি দেখে ২টা মালটা, ২টা আপেল ওজন দিয়ে কিনে বাড়ি ফিরছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো-নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে রমজানে এ দায়িত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন রোজা সামনে রেখে বিশেষ কিছু করার সুযোগ ছিল না। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে-আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে