শুক্রবার, ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০৭:১২:১১

সংকটের আশঙ্কা, জ্বালানি তেল সরবরাহের সীমা বেধে দিল বিপিসি

সংকটের আশঙ্কা, জ্বালানি তেল সরবরাহের সীমা বেধে দিল বিপিসি

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সংকটের আশঙ্কার মধ্যে জ্বালানি তেল সরবরাহের সীমা বেধে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। কোনোভাবেই বরাদ্দের বেশি সরবরাহ করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
 
শুক্রবার (৬ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
 
 বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট নিরসণ এবং সরকারের নেয়া পদক্ষেপ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জানানো যাচ্ছে, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জ্বালানি তেলের ব্যবহার অপরিহার্য। দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। 
 
বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধগ্রস্থ বা বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় ভোক্তা বা গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা লক্ষ্যে করা যাচ্ছে। 
 
এই অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ডিলাররা বিগত সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তাছাড়া কিছু কিছু ভোক্তা ডিলার বা ফিলিং স্টেশন থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করছেন মর্মে খবর প্রকাশ হচ্ছে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি সহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
 
 এতে বলা হয়, দেশের জনগণের ভয় বা আতঙ্ক হ্রাস করার লক্ষ্যে জানানো যাচ্ছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিদেশ থেকে আমদানি কার্যক্রম বা সূচি নির্ধারিত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পার্সেল দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সাময়িকভাবে প্রধান স্থাপনা থেকে সারা দেশের সব ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগণ বা ট্যাংকারের মাধ্যমে প্রেরণ করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের বাফার স্টক (পর্যাপ্ত মজুদ) গড়ে উঠবে। জনগণের চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি তেল সরবরাহ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বা বিপিসি নিম্নরূপ সিদ্ধান্ত নিয়েছে:
 
জ্বালানি তেল সরবরাহ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলী দেয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে। সেগুলো হলো:
 
গাড়ির ধরণ জ্বালানি তেলের ব্যবহার দৈনিক ট্রিপ প্রতি জ্বালানি তেল সরবরাহের পরিমাণ
মোটরসাইকেল অকটেন/ পেট্রোল ২ লিটার
প্রাইভেটকার অকটেন/ পেট্রোল ১০ লিটার
এসইউভি/জিপ/মাইক্রোবাস অকটেন/ পেট্রোল ২০ থেকে ২৫ লিটার
পিকআপ/লোকাল বাস ডিজেল ৭০ থেকে ৮০ লিটার
দূরপাল্লার বাস/ট্রাক/কাভার্ডভ্যান/কনটেইনার ট্রাক ডিজেল ২০০ থেকে ২২০ লিটার
 
১। ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল নেয়ার সময় ভোক্তাকে আবশ্যিকভাবে তেলের ধরণ, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ দিতে হবে।
 
২। ফিলিং স্টেশন থেকে প্রতিবার জ্বালানি তেল নেয়ার সময় পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ বা বিলের মূল কপি জমা দিতে হবে।
 
৩। ডিলাররা উপরোক্ত বরাদ্দ ও নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রয় রশিদ গ্রহণ করে ভোক্তা প্রান্তে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে।
 
৪। ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি তেলের মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করে জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে।
 
৫। তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহ দেয়ার আগে বর্তমান বরাদ্দের আলোকে মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করবে। কোনভাবেই বরাদ্দের বেশি সরবরাহ করা যাবে না।
 
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশে সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল ক্রয় বা বিক্রয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় আইনগত অপরাধ। তাছাড়া, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যে প্রতি মাসের শুরুতে সরকার নির্ধারণ করে। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার কোনোরকম সিদ্ধান্ত নেয়নি। বর্ণিত অবস্থায় দেশের সব ভোক্তা বা ডিলারদের বর্ণিত নির্দেশনা অনুসরণ করে দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হলো।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে