এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : গ্রেপ্তারের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর। শনিবার (০৭ মার্চ) রাতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (০৮ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
গ্রেপ্তারের পর দুইজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে বিবৃতিতে বলা হয়, ওসমান হাদিকে খুন করে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন পালিয়ে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। এরপর থেকে তারা ভারতের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে ছিল। আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা সম্প্রতি বনগাঁ এলাকায় আসে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, গোপন সূত্র মারফত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এসটিএফ খবর পায়, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও খুনসহ একাধিক গুরুতর অপরাধ করার পর দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক দেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং বর্তমানে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে সুযোগ পেলে পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এসটিএফ একটি অভিযান পরিচালনা করে এবং দুইজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে। তারা হলেন-রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭), বাড়ি পটুয়াখালী, বাংলাদেশ এবং আলমগীর হোসেন (৩৪), বাড়ি ঢাকা, বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে এসটিএফ থানায় একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের উপযুক্ত আদালতে পেশ করা হয়েছে। আসামিদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চলছে।
পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পুলিশ সূত্র ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বনগাঁয় গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর তাদের গ্রেপ্তার হয়। গতকাল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেবল সেটা স্বীকার করেছে।
দেশের তদন্তকারী সংস্থার একাধিক কর্মকর্তাও বলছেন, এই দুজন আগেই গ্রেপ্তার বা আটক ছিল বলে তাদের কাছে তথ্য ছিলো।
উল্লেখ্য, গুলিতে নিহত শরিফ ওসমান বিন হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর প্রচারণার উদ্দেশ্যে বের হলে রাজধানীর পল্টনে বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।