এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই ভারতে দেশটির নাগরিকদের জন্য স্থগিত থাকা ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা প্রক্রিয়া এখনো সীমিত। বর্তমানে মাত্র পাঁচটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র থেকে ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভারতে যেতে পারছে না।
ভারতে দেশটির নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ ভিসা কার্যক্রম চালু করলে এদেশে ভারত কেন করছে না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন। তবে কূটনৈতিক সূত্র বলছে, নিরাপত্তা উদ্বেগ, জনবল সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পুরো কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা ভিসা চালু থাকলেও সীমিত। পর্যটক ভিসা নিয়ে এখনো সুখবর নেই। তবে ধীরে ধীরে ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণব ভার্মা বলেন, ‘শুধু ভিসা নয়, দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি। ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হবে। ভিসা কার্যক্রমও।’
জানা যায়, বাংলাদেশের ১৬টি স্থানে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক) কার্যক্রম চালু ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর নিরাপত্তা উদ্বেগে ভারত সব ধরনের ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। এর আগে ৪ আগস্ট থেকেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে অবস্থিত আইভ্যাকগুলো বন্ধ হয়ে যায়, ফলে পাসপোর্ট জমা ও ফেরত কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতি আংশিক স্বাভাবিক হলে আগস্টের শেষ দিকে বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত পরিসরে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া শুরু হয়। তবে নতুন ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। সে সময় আইভ্যাক কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমিত সেবার কারণে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে, তাই আবেদনকারীদের পাসপোর্ট ফেরত নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ভিসা অনুমোদিত হলে পুনরায় পাসপোর্ট জমা নেওয়া হবে।
পরবর্তীসময়ে সীমিত আকারে পাঁচটি আইভ্যাক থেকে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করে ভারতীয় হাইকমিশন। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা কেন্দ্র থেকে মেডিকেল, ডাবল এন্ট্রি ও ব্যবসায়িক ভিসা ইস্যু অব্যাহত রয়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশে আগে ১৬টি ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) চালু থাকলেও বর্তমানে মাত্র পাঁচটির কার্যক্রম চলছে। পুরো ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নই। ১৬টি কেন্দ্র চালু করতে শুধু অবকাঠামো নয়, সংশ্লিষ্ট জনবলের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। আইভ্যাকগুলো থার্ড পার্টির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে নতুন করে জনবল নিয়োগের বিষয়ও রয়েছে, যা হুট করে সম্ভব নয়।’
এক প্রশ্নের জবাবে ওই ভারতীয় কর্মকর্তা আরও জানান, এসব কারণে ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে এবং ঈদের পরই সবকিছু স্বাভাবিক হবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সীমিত পরিসরে ভিসা কার্যক্রম চালু রেখে যতটা সম্ভব আবেদন নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই দিল্লি ও আগরতলায় বাংলাদেশ মিশন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গত ডিসেম্বর মাসে দিল্লি, কলকাতা ও আগরতলায় বাংলাদেশের মিশন ঘিরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ২২ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় সহকারী হাইকমিশন অনিবার্য কারণে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেয়।