এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ। তার দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে তাকে গুলি করতে দেখা যায়নি। তবে ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
রোববার (২২ মার্চ) হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় আদালতে পাঠানো হয়। ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমার বিশেষ আদালতে তোলা হয় তাদের। আদালত থেকে বের হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ফয়সাল।
হাদি হত্যাকাণ্ডের সময় আপনি বাংলাদেশে ছিলেন কি না, এর উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ ছিলাম।
এসময় সিসিটিভি ফুটেজের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে ফয়সাল বলেন, আমাকে গুলি করতে দেখা যায়নি।
তাহলে গুলি কে করলো- এর উত্তরে তিনি বলেন, সেটা আমি জানি না।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না হলে ভারতে পালিয়ে এসেছেন কেন- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি হাদি হত্যা মামলার এই আসামি।
গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এরপর তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠান পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত।
৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী এলাকায় এবং ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়।
তাদের গ্রেফতারের পর এসটিএফ সূত্র জানিয়েছিল, ফয়সাল ও আলমগীর দুজনই হাদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা উভয়ই মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে ও গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
এদিকে, মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে এ দুই আসামিকে ভারতে অনুপ্রবেশে সহায়তা করায় গত ১৩ মার্চ ফিলিপ সাংমা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তাকে সাতদিনের রিমান্ড দেন আদালত। রিমান্ড শেষে শনিবার ফিলিপকে আদালতে তোলা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে গুলি করে গুরুতর আহত করে। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।