এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ ধার্মিক, এ দেশের মানুষ ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করে না। ধর্মকে বিক্রি করে কিছু করা সম্ভব নয়, ধর্ম মানুষের অন্তরের বিষয়। আমরা অন্যান্য নেতার মতো বেহেশতের টিকিট বিক্রি করি না, আমরা আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে ও ইবাদত করে বেহেশতে যাব।’
সোমবার (২৩ মার্চ) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ভাউলার হাট এলাকায় হেনা নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপি যে প্রতিশ্রতি দিয়েছিল তা সব কিছুই পূরণ করা হবে। সরকার গঠনের পর আমরা ধারাবাহিকভাবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। একটি দল সবার আগে মা-বোনদের বেহেশতের টিকিট দেবে বলে তাদের ভুলিয়ে রাখতে চায়। নামাজ, রোজা ইবাদত ও সৎ কাজ ছাড়া কোনোভাবেই বেহেশতে যাওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য আমাদের সবাইকে সৎ কাজ করতে হবে, সৎভাবে জীবন যাপন করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কোনোভাবেই মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, মবকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। বিএনপি কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়নি, দলীয় কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শৃঙ্খলা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না, তাই আমাদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
যুদ্ধের কারণে এখন বড় সংকট দেখা দিয়েছে তেলের। সমস্যা থাকলে তার সমাধান আছে, কিন্তু কোনোভাবে মব সৃষ্টি করা যাবে না। গায়ের জোরে আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করা যাবে না। এই সরকার শুধু কয়েক দিন হলো ক্ষমতা গ্রহণ করেছে, আমাদের কাজ করার সময় ও সুযোগ দিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
ফ্যামিলি কার্ড, খালখনন প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকের উন্নয়ন হলেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব।’ এ ছাড়া তিনি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৃষকসহ বিভিন্ন খাতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যা মোকাবেলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
তিনি জানান, দলীয় কোনো নেতা, শ্রমিক বা সরকারি কোনো কর্মকর্তা, ঠিকাদার খাল খনন কাজে কোনো দুর্নীতি করলে বা বিভিন্ন অজুহাতে কাজ ফেলে রাখলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার বেলল হোসেন, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম পর্যায়ে শালিকষা হতে সিন্দুরনা মৌজা পর্যন্ত ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার খাল খনন করতে খরচ হবে প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। প্রকল্প কাজ শেষ হবে ২৫ জুন।