এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নতুন করে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছাবে আগামী শুক্রবার (২৭ মার্চ)।
বিশ্ববাজারে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে এটি ভারত থেকে পাইপলাইনে আসা ডিজেলের দ্বিতীয় চালান।
পার্বতীপুর ডিপোর ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব জানান, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনে পাম্পিংয়ের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। পরবর্তী ৬০ ঘণ্টার মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোর সংরক্ষণাগারে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, গত ১৩ মার্চ প্রথম চালানে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছিল।
ডিপো সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে ডিজেলের মজুত রয়েছে ২২ লাখ ১৫ হাজার লিটার, যেখানে ধারণক্ষমতা ৫৭ লাখ লিটার। এ ছাড়া পেট্রোল ১২ হাজার লিটার, অকটেন ১৬ হাজার লিটার এবং কেরোসিন ৭০ হাজার ২৮৭ লিটার মজুত রয়েছে। বর্তমান এই মজুত দিয়ে আগামী সাতদিন সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হবে। নতুন চালানটি পৌঁছালে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
কৃষিপ্রধান উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় সেচ কাজ এবং যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ২০১৭ সালে ভারতের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ডিজেল আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর একটি অংশ বিপিসি নিজস্ব অর্থায়নে এবং বাকি অংশ ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করবে। এ ছাড়া আগামী চার মাসের মধ্যে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে বিপিসি।
উল্লেখ্য, প্রতিবেশী দেশটি পাইপলাইনের মাধ্যমে ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭১৮ মেট্রিক টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ২৪ হাজার ২১৬ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করেছে।