এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : রাজধানীতে হঠাৎ পাল্টে গেল ব্রয়লার মুরগির বাজার। শহরের মুরগির বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের আগে সাধারণত মুরগির চাহিদা বাড়ে, কারণ এই সময়ে ভোক্তারা বেশি মুরগি কেনেন।
ব্রয়লার মুরগি খামারিরা জানান, গত ১২ মাসের বেশিরভাগ সময় ধরে দাম কম থাকায় তারা লোকসানে ছিলেন। ঈদের আগে দাম বাড়ায় তারা তাদের লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নিতে পেরেছেন।
সম্প্রতি অনেক মুরগির খামারেও রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যার ফলে মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। দামের আকস্মিক বৃদ্ধিতেও এর ভূমিকা রয়েছে।
নরসিংদীর শিবপুরের বিরাজনগর বাজারের খাজা পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড মেডিসিন কর্নারের স্বত্তাধিকারী এবং খামারি আবু হানিফা জানান, চাহিদা বেশি ও সরবরাহ কম হওয়ায় ব্রয়লারের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, তার এলাকার ৫০ শতাংশেরও বেশি খামার রোগে আক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে অস্বাভাবিক হারে মুরগির মৃত্যু ঘটেছে। এতে মুরগির উৎপাদন ও সরবরাহ কমে গেছে।
তিনি জানান, শিবপুরের খামারিরা খামার থেকে সম্প্রতি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯৮ টাকায় বিক্রি করেছেন। যা ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি করতে হয়েছে প্রায় ১৪৫ টাকায দরে। একই ভাবে এই দর জানুয়ারিতে ১৩৬ থেকে ১৪৫ টাকা; ডিসেম্বরে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ছিল। আর নভেম্বরে সেগুলো ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আবু হানিফা বলেন, ব্রয়লার মুরগির বর্তমান বাজার দর আরও কয়েক মাস অব্যাহত থাকলে তার মতো খামারিরা নিকট অতীতে দাম কম থাকার লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন।
মোঃ জহিতুল হক সাতটি শেডে ২২-২৩ হাজার মুরগি পালনের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পোল্ট্রি খামার চালান। শিবপুরের সোনাকুড়া সিঅ্যান্ডবি বাজারে তার ‘মায়ের দোয়া পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড মেডিসিন কর্নার’ নামে একটি দোকানও রয়েছে। তার মতে, “গত এক মাস ধরে খামারিদের জন্য দাম ভালো ছিল। কিন্তু তার আগের ১০ মাসের ৯ মাসই খারাপ ছিল” তিনি বলেন। “কিছু খামারি বর্ধিত দামের কারণে লাভবান হচ্ছেন, আবার অন্যরা উচ্চ মৃত্যুহারের কারণে এখনও লোকসানে রয়েছেন।”
শিবপুরের বয়লাবোতে নারী উদ্যোক্তা জীবনা বেগম (৩৬), তার স্বামী ও দুই ছেলের সহায়তায় দুটি শেডে ৩,৫০০ মুরগির একটি খামার চালান। ১২ মার্চ তার খামারের ১,৬০০টি মুরগি বিক্রি করে ভালো মুনাফা পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ এবার রমজান মাসে এত লাভের আশা ছিল না আমাদের।”
মো. রবিউল্লাহ (৩৫), একজন সিনিয়র স্কুল শিক্ষক, ১৬ বছর আগে ছাত্র থাকাকালীন শিবপুরের দোপাথরে তার গ্রামের বাড়িতে ৫০০টি মুরগি নিয়ে পোল্ট্রি পালন শুরু করেন। এখন তার ছয়টি শেডে ২০ হাজার মুরগি রয়েছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে অব্যাহত লোকসানের পর অবশেষে লাভের মুখ দেখেছি। এর অন্যমত কারণ, এলাকার আশেপাশের অনেক খামারে রোগে আক্রান্ত হয়ে মুরগি মারা গেছে। এতে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে গেছে এবং দাম বেড়েছে। এই ব্যবসায় যে টিকে থাকে, শেষ পর্যন্ত সে-ই লাভ করে। কিছুদিন দাম কম থাকার পর বাজার আবার ভালো হয়ে যায়।