বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০০:৩৯

যারা পাবেন কৃষি কার্ড, মিলবে যে ১০ ধরনের সুবিধা

যারা পাবেন কৃষি কার্ড, মিলবে যে ১০ ধরনের সুবিধা

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : জিডিপিতে কৃষির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হলেও কৃষকদের সুরক্ষায় নেই তেমন কোনো পদক্ষেপ। বর্তমান সরকার কৃষকদের সুরক্ষা দিতে কৃষক কার্ড চালু করতে যাচ্ছে। যে কার্ডের মাধ্যমে কৃষক পাবে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, প্রণোদনা, কৃষি বিমাসহ পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা। 

প্রান্তিক কৃষকরা বলছেন, এসব সুবিধা নিশ্চিত হলে দেশের কৃষি ও কৃষক ঘুরে দাঁড়াবে। বাড়বে শস্যের উৎপাদন। নিশ্চিত হবে কৃষকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা।

আগামী ১৪ এপ্রিল সরকার কৃষি কার্ড বিতরণ শুরু করবে। একসঙ্গে ২০ হাজার কৃষককে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিন শ্রেণির কৃষক এ সুবিধার আওতায় আসছেন। কার্ডের সুবিধাভোগী কৃষকরা প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে পাবেন। 

কার্ড গ্রহণকারী কৃষকদের দেওয়া হবে ১০ ধরনের সুবিধা। এগুলো হলো-সরাসরি সরকারি ভর্তুকি; ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ যেমন-সার, বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহের সুবিধা; সহজশর্তে কৃষিঋণ; শস্য ও কৃষি বিমার সুবিধা; কৃষি খাতে সরাসরি সরকারি প্রণোদনা; ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা; উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বিক্রির সুযোগ; নতুন ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সহায়তা; উন্নত চাষাবাদের ওপর প্রশিক্ষণ এবং কৃষি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন শ্রেণির কৃষক অর্থাৎ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিক কৃষকরা কৃষি কার্ড পাবেন। ৮ বিভাগের ১১টি উপজেলার ১১ স্থানে বিতরণ করা হবে কৃষি কার্ড। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষি কার্ড বিতরণ করবেন।

কৃষক কার্ডে কী কী সুবিধা পাবেন?

এই ডিজিটাল কার্ডটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি কৃষকদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতীক। এর মাধ্যমে কৃষকরা পাবেন:

সরাসরি আর্থিক সহায়তা: ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকরা গড়ে ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ সহায়তা বা উপকরণ ভর্তুকি পাবেন।

ভর্তুকি ও উপকরণ: কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করা যাবে।

সহজ শর্তে কৃষি ঋণ: কার্ডধারীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ এবং অন্যান্য ঋণ সুবিধা পাবেন।

ডিজিটাল পরামর্শ: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়ার আপডেট, বাজার দর এবং ফসলের রোগবালাই দমনে সরাসরি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পাওয়া যাবে।

নিবন্ধনে কী কী তথ্য লাগবে

স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কৃষকদের বেশ কয়েকটি তথ্য প্রয়োজন হবে। সেগুলো হলো,

১. এনআইডির একটি কপি।

২. পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

৩. রেজিস্ট্রেশন মোবাইল নাম্বার।

৪. জমির দলিল কিংবা ভাগে চাষিদের জন্য প্রমাণপত্র।

৫. ব্যাংক বা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর।

কৃষক কার্ড পাওয়ার ধাপসমূহ 

সরকার প্রধানত স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এই কার্ডটি পৌঁছে দেবে। আপনার যা করতে হবে :

১. উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ : আপনার ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO)-এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তিনিই প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেন।

২. নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন : সরকার যখন আপনার এলাকায় ‘পাইলট প্রজেক্ট’ বা মূল প্রকল্প শুরু করবে, তখন আপনাকে একটি ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অনলাইনেও করা যাবে।

৩. তথ্য যাচাই : আপনার দেওয়া তথ্য (জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন ইত্যাদি) কৃষি অফিস থেকে সরেজমিনে যাচাই করা হবে।

৪. ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি : আপনার এনআইডি এবং মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি হবে।

৫. কার্ড বিতরণ : যাচাই শেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আপনাকে এই স্মার্ট কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে।

কৃষি স্মার্ট কার্ড নিয়ে ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে সরকার। কর্তৃপক্ষ বলছে, কার্ডটি বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে। কার্ডের জন্য কারো সঙ্গে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন করবেন না।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে