এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : হঠাৎ দেশে হামের সংক্রমণ মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে সংক্রমণের উচ্চ হার বিবেচনায় নিয়ে এসব উপজেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ১২ লাখ ৩ হাজার ২৬৭টি শিশুকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী তালিকায় থাকা উপজেলাগুলো হলো, বরিশাল বিভাগের বরগুনা সদর, মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ ও নলছিটি (ঝালকাঠি)। চট্টগ্রাম বিভাগের হাইমচর ও চাঁদপুর সদর; মহেশখালী ও রামু (কক্সবাজার)।
ঢাকা বিভাগের নবাবগঞ্জ (ঢাকা), গাজীপুর সদর, মাদারীপুর সদর, জাজিরা (শরীয়তপুর) এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ঈশ্বরদী, পাবনা সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; নাটোর সদর, পোরশা (নওগাঁ), শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও ভোলাহাট; রাজশাহীর গোদাগাড়ী। ময়মনসিংহ বিভাগের ত্রিশাল, সদর, ফুলপুর ও নেত্রকোনার আটপাড়া।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ১৬.৮ জন হামে আক্রান্ত, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংক্রমণের হারে সবার ওপরে রয়েছে বরগুনা সদর উপজেলা। এখানে সংক্রমণ হার ২৯৫, যেখানে ৩৬ হাজার ৮৮ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাবনা সদর উপজেলায় সংক্রমণ হার ১৮০। এখানে টিকা পাবে ৭২ হাজার ৮২৫ জন শিশু। ১৪৪ সংক্রমণ হার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকা চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৫৭ হাজার ৩২৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৫ হাজার ৭৯২ জনের পরীক্ষা করে ৭৭১ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সময়ে ৯৪ জনের সন্দেহজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রের দাবি, গত এক সপ্তাহেই মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।
জরুরি এই কর্মসূচি সফল করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর উচ্চপর্যায়ের সভা পরিচালনা করছে। তবে মাঠপর্যায়ে জনবল সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, অনেক জেলায় ৩০ শতাংশের বেশি স্বাস্থ্য সহকারীর পদ শূন্য থাকায় টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কালকের সভায় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আরও দু-একটি উপজেলা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে নির্ধারিত বয়সের সব শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।