বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫২:৪১

এবার যে সুখবর জ্বালানি তেল নিয়ে

এবার যে সুখবর জ্বালানি তেল নিয়ে

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আগামী মে মাস পর্যন্ত দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা নিশ্চিত করতে সরকার সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের আনিত ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনার জবাবে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি যখন জনগণের সমর্থনে এই সরকার গঠিত হয়, তখন দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ছিল মাত্র সাত দিনের। এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় আমাদের আমদানিকৃত তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছিল। তবে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ ও বিকল্প উৎস সন্ধানের ফলে আমরা একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছি। বর্তমানে জুন ও জুলাই মাসের চাহিদা পূরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, গত দুই মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্য ১৪২.৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির দাম ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে মাত্র ১০ থেকে ১৬ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করেছে। কৃষকদের সেচের কথা বিবেচনা করে প্রথম ৪৫ দিন সরকার কোনো দামই বাড়ায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, পাবনা, নাটোর ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও পাচারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘কোথাও পানির ট্যাংকে, কোথাও ড্রয়িংরুমে আবার কোথাও মাটির নিচে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুতের খবর পাওয়া গেছে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে করেও তেল পাচার করা হচ্ছে। এসব অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।

জ্বালানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে সরকার ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ চালু করেছে এবং এটি পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী অমিত জানান, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় অনেক জেলায় এরই মধ্যে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরেছে।

বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের বুদ্ধিমত্তা ও শিষ্টাচারের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট কোনো বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর বিষয় নয়, এটি সবাই মিলে সমাধান করার বিষয়। আপনাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে আমরা তা গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত।

বিরোধী দলীয় নেতা ও তার টিমকে জ্বালানি সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর দপ্তরে আলোচনার আমন্ত্রণ জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অমিত।

প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থে এবং কৃষকের ভর্তুকি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ দূরদর্শিতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে