মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৩৯:১৩

বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরেকটি মাইলফলক অর্জনের পথে বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরেকটি মাইলফলক অর্জনের পথে বাংলাদেশ

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হতে যাচ্ছে। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু হচ্ছে। তবে এর পরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বিদ্যুৎ।

প্রায় এক যুগের পথচলায় মহামারি, বৈশ্বিক সংঘাতসহ নানা চ্যালেঞ্জ এলেও থেমে থাকেনি প্রকল্পের অগ্রগতি। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর এখন পরীক্ষামূলক উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে।

তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ‘কোর ক্যাচার’ প্রযুক্তি। এটি ৯ মাত্রার ভূমিকম্প কিংবা ১০-১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসেও টিকে থাকতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে কেন্দ্রটি ৮০-৯০ বছর পর্যন্ত সচল রাখা সম্ভব।

রূপপুরের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন হবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল বান্ডেল। প্রতিটি বান্ডেলে থাকে ১৫টি করে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ রড। এরই মধ্যে ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি সংরক্ষণে রাখা হবে।

চুল্লিতে এসব বান্ডেল স্থাপন করতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন শুরু হবে। সেই তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘুরাবে, যার মাধ্যমে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ফুয়েল লোডিং শেষ হতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে। এরপর আরও প্রায় ১৫ দিন চলবে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে এ ধাপ সম্পন্ন হবে। এরপর প্রায় দুই মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

তবে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি থাকবে। শুরুতে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, যা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ফুয়েল লোডিংয়ের মধ্য দিয়ে এখন পারমাণবিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এর আগে নন-নিউক্লিয়ার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই এ ধাপের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ধাপে ধাপে উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করা হবে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্ট থেকে জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে সময় লাগতে পারে আগামী বছর পর্যন্ত।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে