মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১২:৫২

পানিতে পা ডুবিয়ে এসএসসি পরীক্ষা!

পানিতে পা ডুবিয়ে এসএসসি পরীক্ষা!

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : কুমিল্লা শহরে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি জমতে শুরু করে। যা দুপুরের পর আরও বেড়ে যায়।

সকালের দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে শহরের কান্দিরপাড়, চকবাজার, রানীরবাজার, শাসনগাছা ও ধর্মপুর এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ বলে জানা গেছে। অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে, ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা। বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ চলে যায়। কোনো কোনো কেন্দ্রে মোমবাতি ও চার্জলাইট জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আবার অনেক কেন্দ্রে পানি জমে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের হাঁটু ও কোমর সমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়।

কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা স্কুল কেন্দ্রের সামনে পরীক্ষা শেষে ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে অভিভাবক হারুনুর রশিদ বলেন, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট পরেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর মোমবাতি ও চার্জার লাইট দিয়ে ভেতরে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করে। স্কুলের পুরোনো ভবনে যে সব শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে তাদেরকে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে লিখতে হয়েছে। পানিতে পা ডুবিয়ে রেখেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এর বিকল্প ছিল না।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।

এতেই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই পানি ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছেন।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, বিগত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার রাস্তাঘাট ও ড্রেনের কাজ হয়। নগরীর শাসনগাছা, রেসকোর্স, বাগিচাগাঁও, ফায়ার সার্ভিস রোড, কান্দিরপাড় নজরুল অ্যাভিনিউ, রানীরবাজার, অশোকতলা, স্টেশন রোড, পুলিশ লাইন, জেল রোড, ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়, ঝাউতলা, বাদুরতলা, মনোহরপুর, সার্কিট হাউজ রোড, আদালতের মোড়, তালপুকুর রোড, ফয়জুন্নেসা স্কুল রোড, ডাক্তার পাড়া, সদর হাসপাতাল রোড, ছাতিপট্টি, রাজগঞ্জ, মোগলটুলীসহ প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা নিরশনে সিটি করপোরেশন বক্স ড্রেন নির্মাণ করলেও অজ্ঞাত কারণে এসব ড্রেন পানি নিষ্কাশনে কোনো কাজে আসছে না।

কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক শিল্পী বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বাড়ির নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না।‌ এজন্য কুমিল্লা সিটি করপোরেশনকে কঠোর হতে হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৪ বছর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে তারা কার্যকর কোনো কার্যক্রম করেনি। আমি গত মাসে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। ইতোমধ্যে নগরীর রেইসকোর্স খাল এবং কান্দিরপাড় খাল খনন সম্পন্ন করেছি। যে সব জায়গায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে সেসব এলাকায চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আরও বৃষ্টি হতে পারে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে