এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে থাইল্যান্ডের অ্যালবিনো জাতের একটি গোলাপি রঙের মহিষ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চেহারার মিল থাকায় আদর করে এর নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলা বিরল প্রজাতির এই মহিষটি ইতোমধ্যে কেজি দরে বিক্রিও হয়ে গেছে। একই খামারে ‘রহমান ডাকাত’ নামের বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়ও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া ছোট কবরস্থান এলাকায় অবস্থিত রাবেয়া এগ্রো ফার্মে গত ১০ মাস ধরে বেশ যত্ন করে লালন-পালন করা হয়েছে এই মহিষটিকে। অদ্ভুত নাম আর ভিন্ন রঙের কারণে খামারটিতে এখন উৎসুক জনতার বেশ ভিড়।
জানা যায়, থাইল্যান্ডের অ্যালবিনো জাতের গোলাপি রঙের এই মহিষটি রাজশাহীর একটি হাট থেকে কিনে আনা হয়েছিল। এর ওজন ৭০০ কেজির বেশি। মহিষটির মাথার সামনের দিকে সিঁথি করা লম্বা চুল থাকায় দেখতে অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো লাগে। তাই আদর করে মহিষটির এমন নাম রাখা হয়েছে। সুঠাম দেহের এই মহিষকে ঘিরে সবার কৌতূহল।
মহিষ সাধারণত কালো রঙের হলেও বিরল প্রজাতির এই মহিষটির পুরো শরীরের রং হালকা গোলাপি। এর চাহনিতেও রয়েছে অন্যরকম মায়া। খামারের কর্মচারীরা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে নিয়মমাফিক খাবার খাওয়ানো, গোসল করানো ও স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ নানাভাবে এর যত্ন নিচ্ছেন ৪-৫ জন কর্মচারী। দেশি গরুর মতোই সবুজ ঘাস, ভুট্টা, ভুসি, সয়াবিন, খৈল, ধানের কুঁড়া ও খড়সহ প্রাকৃতিক সব ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করে এটি। পুরো শরীর বড় লোমে ভরা থাকলেও এটি উগ্র নয়, বরং বেশ শান্ত স্বভাবের; চলাফেরাতেও রয়েছে রাজকীয় ভাব।
খামার মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা জানান, মহিষটির মাথাভর্তি একরাশ চুল থাকায় তার ভাই এর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেহারার মিল খুঁজে পান এবং এই নাম রাখেন। দেড় মাস আগে ঢাকার এক ব্যক্তি কোরবানির জন্য মহিষটি কিনে নিয়েছেন। এখন অনেকেই আরও বেশি দাম দিয়ে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ইতোমধ্যে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে গেছে।
খামারটিতে কালো রঙের ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের বিশাল আকৃতির একটি তেজি ষাঁড়ও রয়েছে, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘রহমান ডাকাত’। ৮০০ কেজি ওজনের এই ষাঁড়টি ডাকাতের মতোই বেপরোয়া ও ক্ষিপ্র গতিতে চলে। এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে কমপক্ষে ৫-৬ জন মানুষ লাগে, এরপরও সবাইকে হিমশিম খেতে হয়। ট্রাম্পের মতো এই ষাঁড়টিও সবার নজর কাড়ছে।
জিয়াউদ্দিন মৃধা আরও জানান, কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে তার খামারে আরও ২০০টি গরু, ৫০টি মহিষ ও ৪০টি গাড়ল (ভেড়া) প্রস্তুত করা হয়েছিল, যার সবগুলোই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।