এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আবারও আলোচনা উঠেছে। সম্ভাব্য নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন গ্রেডের প্রস্তাবিত বেতন প্রকাশের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও এখনো সরকারিভাবে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট আটবার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের কথা থাকলেও করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজস্ব চাপে সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন পিছিয়ে যায়।
২০২৬ সালে এসে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত প্রস্তুতের কাজ করছে।
প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হতে পারে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা। চতুর্থ গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা এবং পঞ্চম গ্রেডে ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া ষষ্ঠ গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং সপ্তম গ্রেডে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা ধরা হয়েছে। অষ্টম গ্রেডে ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং নবম গ্রেডে ৪৫ হাজার ১০০ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে দশম গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা, একাদশ গ্রেডে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং দ্বাদশ গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। ত্রয়োদশ থেকে বিংশ গ্রেড পর্যন্ত বেতনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি এখনো একটি প্রস্তাবিত কাঠামো মাত্র। সরকারিভাবে গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত বেতন কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।