বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ০৭:৫৩:১১

একসঙ্গে নিহত ৪ ভাইয়ের জানাজা পড়ালেন একমাত্র জীবিত ভাই

একসঙ্গে নিহত ৪ ভাইয়ের জানাজা পড়ালেন একমাত্র জীবিত ভাই

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ওমানে এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামের চার ভাইয়ের মরদেহ তাদের নিজ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। 

বুধবার (২০ মে) সকালে ১১ টায় হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে হয় জানাজা। এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

স্বপ্ন ছিল তাদের যে, ওমান থেকে ফিরে পরিবারকে কাছে পাবেন চার ভাই। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, এক রাতেই প্রবাসের মাটিতে নিভে গেল সব স্বপ্ন।

এরা ফিরে এসেছে তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে, নিজেদের বাড়িতে, নিথর দেহে। শেষ যাত্রায়ও সঙ্গী ছিলেন চার ভাই।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রবাসী চার ভাইয়ের মরদেহ শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর পর, সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজারে মরদেহগুলো অ্যাম্বুল্যান্সে করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে বুধবার ভোরে নিয়ে আসা হয়।

চার ভাইকে এক নজর দেখার জন্য গ্রামের মানুষসহ আশেপাশের এলাকার হাজারো মানুষ উপস্থিত হন। একসাথে চার ভাইয়ের মৃত্যু কোনো ভাবেই মানতে পারছেন না এলাকাবাসী ও স্বজনরা।

পাশাপাশি রাখা চারটি লাশবাহী খাটিয়া ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন অসংখ্য মানুষ। কারও চোখে পানি, কেউ আবার নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন। বুধবার সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বন্দারাজা পাড়ায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

বুধবার সকালে ১১ টায় হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিহতদের একমাত্র জীবিত ভাই এনামুল হক স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনিই জানাজার নামাজ পড়ান। কিন্তু জানাজার আগে উপস্থিত সবার সামনে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি শুধু বলেন, "আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন।" জানাজার শেষে একসাথে চার ভাইকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এলাকাবাসী মো. ইসমাইল জানান, ১২ বছর আগে মেজো ভাই প্রথম ওমানে যান। পরে একে একে অন্য ভাইদেরও সেখানে নিয়ে যান। তারা ওমানে দুটি গাড়ি ওয়াশিংয়ের ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠেন।

কয়েক বছর আগে তারা জমি কিনে নতুন বাড়ি তৈরি শুরু করেন। তাদের মধ্যে দুজন কিছুদিন আগে বিয়ে করেছিলেন। মেজো ভাই বিদেশে যাওয়ার মাত্র আট মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। তাদের সুখের সংসারটা এক নিমিষে শেষ হয়ে গেল।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, চার ভাইয়ের মরদেহ ভোরে বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। জানাজা ও দাফনের জন্য সব প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছিল।

সরকারি নিয়ম অনুসারে নিহত প্রবাসীরা প্রতিজন তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবে, জানিয়ে মো. নাজমুল হাসান বলেন, "আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এই টাকা তাদের পরিবারকে দেয়া যায়।"

এই পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মোহাম্মদ এনাম মাকে নিয়ে লালানগরের বাড়িতেই থাকেন। বড় দুই ভাই রাশেদ ও সাহেদ বিবাহিত ছিলেন এবং তাদের পরিবার রাঙ্গুনিয়ার বাড়িতেই থাকে। এদের মধ্যে সাহেদ সাত মাস আগে বিয়ে করে ওমানে গেছেন।

অন্যদিকে, অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ঘটনায় দ্রুত সময়ে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করায় এলাকাবাসী প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও স্থানীয় সাংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গত মঙ্গলবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় কেনাকাটা শেষে একটি ক্লিনিকের সামনে গাড়ির ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েন চার ভাই। গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু ঘটে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে