এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।
সভা শেষে তিনি জানান, মাজারে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত দিঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাজার এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হবে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মাজারের দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল আসবে।
তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কুমিরটি ধরার পদ্ধতি, স্থানান্তরের সময় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় নির্ধারণ করবেন।
উল্লেখ্য, সোমবার রাত ৮টার দিকে মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নেমে ৭ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে মাজার সংলগ্ন দিঘির মহিলাঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং মাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি ওঠে।