এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য ও ভোক্তা সুরক্ষায় সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামাল ও নিকোটিন আমদানিতে ৩০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হৃদ্রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং ও চোখের লেন্সে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যে কাস্টমস শুল্ক কমানো এবং এই খাতে ভ্যাট ও আয়কর অব্যাহতির পরিকল্পনাও রয়েছে।
আসন্ন বাজেটে ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কর ও ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব আসতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। এতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ কিছুটা কর সুবিধা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভ্যাট ব্যবস্থাপনায়ও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন নীতিগত কাঠামোর অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইনপুট-আউটপুট কোয়েফিশিয়েন্ট ঘোষণার ক্ষমতা পেতে পারে। তবে কর্পোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানিতে শুল্ক কমানো এবং সৌর বিদ্যুৎ যন্ত্রাংশ আমদানিতেও শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। ১৫০ সিসির বেশি মোটরসাইকেল কেনার ক্ষেত্রে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব আসতে পারে। যানবাহন খাতে কর ব্যবস্থাকে আরও শৃঙ্খলিত করতে এই উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে।
দৈনন্দিন বাজারে স্বস্তি আনতে মসলাজাতীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব আসতে পারে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ছোট ব্যবসার জন্য ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত রাখা এবং টার্নওভার করের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। ভ্যাট রিটার্ন তিন মাস পরপর দাখিল করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় আছে।
আয়কর কাঠামোয় ধাপে ধাপে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ এবং পরবর্তী দুই বছরে তা ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাবও রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।