সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ০৩:২৪:৩৭

আজ থেকে বাজারে মিলবে স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় জিআই স্বীকৃত সেই আম

আজ থেকে বাজারে মিলবে স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় জিআই স্বীকৃত সেই আম

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় এবং জিআই স্বীকৃত উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা আম আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসছে। অতিবৃষ্টির কারণে আমের ফলন এবার কিছুটা কম হলেও, ৩০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা করছে কৃষি বিভাগ ও আম চাষিরা।

রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের আবাদ হয়েছে। 

সোমবার (১৫ জুন) বেলা ২টায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকায় চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমের বাজারজাতকরণের উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আম উদ্বোধনের এক সপ্তাহ আগে থেকেই রংপুরের বাজারজুড়ে সয়লাভ হয়েছে ভ্রাম্যমাণ বেচাকেনার। বর্তমানে এই আম পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে (কাঁচা) প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।  আর (পাকা) আম বিক্রি করছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। তবে এবার ফলন কিছুটা কম হলেও দাম গতবারের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়তি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যে হাট ঘিরে হাঁড়িভাঙার বিকিকিনি হয়, সেই হাট এলাকার ব্যবসায়ী ও আম চাষিদের মধ্যে অস্বস্তির শেষ নেই। একদিকে ফলন কম, অন্যদিকে হাঁড়িভাঙার রাজধানীখ্যাত পদাগঞ্জ হাটের বেহাল দশা। বাইপাস সড়কগুলোও কর্দমাক্ত অবস্থায় দুর্ভোগের শেষ নেই। পাশাপাশি কাগজে-কলমে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া এই আমের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটছে না চাষিদের।

সোমবার সকালে পদাগঞ্জ এলাকা ঘুরে কথা হয় পদাগঞ্জ বাজারের আম ব্যবসায়ী সজীব শেখের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতিবছর জিআই পণ্য খ্যাত এই আমের হাট ৫০ লাখ টাকার উপরে ইজারা ডাক হয়। এই হাটটিকে আম বিক্রির আধুনিক বাজার ঘোষণা করা হলেও সেই দাবিটি থেকেছে উপেক্ষিত, ফলে কাদামাটিতেই বিক্রি করতে হয়। 

হাঁড়িভাঙা আমের প্রবর্তক নফল উদ্দিন পাইকারের ছেলে ও আমচাষি আমজাদ হোসেন পাইকার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শুনছি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এই আমের সংরক্ষণকাল বাড়ানোর জন্য গবেষণা করছে। কিন্তু এখনো এর বাস্তব সুফল পাইনি। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পরও উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি।”

আমজাদ হোসেন আরো বলেন, “হাঁড়িভাঙার রাজধানীখ্যাত পদাগঞ্জ এলাকায় রাস্তার অবস্থা খারাপ, নেই পর্যাপ্ত আবাসন, ব্যাংকিং সুবিধা কিংবা স্থায়ী বিপণন শেড। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি।”

কৃষি বিভাগ ও চাষিদের মতে, জুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বাজারে পরিপক্ব ও উন্নত মানের হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া যাবে। এর আগে বাজারে ওঠা আমের বেশিরভাগই অপরিপক্ব হতে পারে। প্রকৃত স্বাদ পেতে জুনের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষমুক্ত ও অতি সুমিষ্ট আঁশহীন হাঁড়িভাঙা আমের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। কয়েক বছর ধরে ফলন ভালো হওয়ায় বেড়ে চলেছে আম উৎপাদনের পরিধিও। রংপুর সদর, মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার বিস্তৃত এলাকার ফসলি জমি, বাগানসহ উঁচু-নিচু ও পরিত্যক্ত জমিতে চাষ হচ্ছে এই আম। অভাব গুছিয়ে সচ্ছলতা ফিরছে হাজারো পরিবারে। এই আমের মৌসুম ঘিরে নানাভাবে কর্মযজ্ঞে জীবন জীবিকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় প্রায় ৩০ হাজার লোকের।

তবে জিআই স্বীকৃতি মিললেও এই আমের বাণিজ্যিক প্রসার নিয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীদের রয়েছে চাপা ক্ষোভ। চাষিদের অভিযোগ রয়েছে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের দীর্ঘ সময়ের চলমান আমের লাইফলাইন নিয়ে কাজের অগ্রগতি নিয়েও।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা আম প্রায় ১০ থেকে ১২ টন ফলন হয়। 

কৃষি সম্প্রসারণ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, শিলাবৃষ্টিতে হাঁড়িভাঙা ঝড়ে পড়লেও ফলন ভালো হয়েছে। আকার বড় হয়েছে। তাই কৃষকরা পুষিয়ে উঠতে পারবেন। এবার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি হাঁড়িভাঙা বেচাবিক্রি হবে। যা এই অঞ্চলের প্রান্তিক অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের বলেন, জিআই পণ্যখ্যাত হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত আজ দুপুর থেকে শুরু হবে। যেহেতু এবার একটু ফলন কম হয়েছে। সুতরাং আমের বাজার মূল্য এবার চাষিরা ভালোই পাবেন বলে মনে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, অবকাঠামোগত যে অসুবিধা, ব্যাংকিংসহ রাস্তাঘাট এবং নিরাপত্তা সেসব বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। কিভাবে এগুলোর সমাধান করা যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এছাড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো আমরা দূর করার চেষ্টা করছি। ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল জিআই বা ভৌগলিক পণ্যের স্বীকৃতি পায় হাঁড়িভাঙা আম।  

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে