মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ০৮:১৯:৫৯

বড় দুঃসংবাদ তিন শ্রেণির দলিল ইস্যুতে, যে প্রস্তাবের দাবি

বড় দুঃসংবাদ তিন শ্রেণির দলিল ইস্যুতে, যে প্রস্তাবের দাবি

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : জাতীয় বাজেটে হেবার ঘোষণা, দানের ঘোষণা ও দানপত্র দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত উৎসে কর (গেইন টেক্স) বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ভূমি মালিক, দলিল সম্পাদনের সঙ্গে জড়িত আইনজীবী ও দলিল লেখকসহ সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে তারা বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রেশন ও নামজারির ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ উপস্থাপনের প্রস্তাবও অযৌক্তিক এবং অবাস্তবায়নযোগ্য বলে দাবি করেছেন। 

এসব প্রস্তাব কার্যকর করতে গেলে ভূমির মালিকানা নিয়ে ভয়াবহ জটিলতা তৈরি হবে। বাড়বে জনভোগান্তি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা। সরকার রাজস্ব বাড়াতে এই প্রস্তাব দিলেও উলটো রাজস্ব হারাতে হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।

এদিকে ভূমি রেজিস্ট্রেশন নিয়ে ভবিষ্যৎ জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে নতুন করে প্রস্তাবিত উৎসে কর ও আয়কর রিটার্ন দাখিলের বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দলিল লিখক সমিতি, চট্টগ্রাম জেলা শাখা। দাবি আদায়ে সোমবার তারা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

১১ জুন জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাজেটে সম্পত্তি হস্তান্তর থেকে কর সংগ্রহ (১) এর ধারা ১২৫ এর অধীনে তিন শ্রেণির দলিলে উৎসে কর আদায় ও রিটার্ন দাখিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। হেবা ঘোষণা, দানের ঘোষণা দলিল ও দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের ওপর ৩ শতাংশ বা থানা ভেদে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা উৎসে কর আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রেশন ও নামজারির ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, এমনিতেই দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে চার ধরনের ট্যাক্স সরকারকে দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে দলিলমূল্যের ওপর স্ট্যাম্প-দেড় শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি- ১ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর (২ থেকে ৩ শতাংশ, পৌর করপোরেশন ও উপজেলা ভেদে) ও উৎসে কর ৩ শতাংশ। ভূমির নামজারির ক্ষেত্রেও সরকারি ফি ধার্য রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বিভিন্ন উপজেলা বিশেষ করে নদী, সাগর, উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলেও প্রতি শতক জমির ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎসে কর ধার্য করা হয়। এতে দেখা গেছে, জমির ক্রয়মূল্য ও রেজিস্ট্রেশন খরচ সমান হয়ে গেছে। এ কারণে এসব অঞ্চলে জমি-বেচাকেনা অবিশ্বাস্যভাবে কমেছে। পরবর্তী অর্থ বছরগুলোতে এই খাতে রাজস্ব আহরণের চিত্রও হতাশাজনক। বাজেটে তিন শ্রেণির জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নতুন করে আরোপিত উৎসে কর বা গেইন টেক্স কার্যকর হলে চট্টগ্রামসহ সারা দেশেই রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে একই অবস্থা সৃষ্টি হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘হেবা ও দানের ঘোষণার দলিল হয় রক্তের সম্পর্কের ওয়ারিশদের মধ্যে। এখানে কোনো আর্থিক লেনদেন হয় না। দানপত্র দলিলের ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেন হয় না। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ। তাই এই ক্ষেত্রে উৎসে কর আরোপ কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তাছাড়া ভূমি মালিক বা ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমির মালিকরা ভবিষ্যৎ জটিলতা এড়াতে নিজেদের মধ্যেই বণ্টননামা দলিল করে থাকেন। এক্ষেত্রেও কোনো আর্থিক লেনদেনের বিষয় নেই। এর পরও সরকার বাজেট প্রস্তাবে এই তিন শ্রেণির দলিলে উৎসে কর আরোপের প্রস্তাব করেছে। নামজারির ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রস্তাবও অযৌক্তিক।

এ প্রসঙ্গে দলিল লিখক সমিতি চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আকবর আলী যুগান্তরকে বলেন, আর্থিক লেনদেন নেই এমন দলিল সম্পাদনে প্রস্তাবিত ৩ শতাংশ উৎসে কর সাধারণ ও নিুশ্রেণির মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

জনবান্ধব সরকারের কাছে ‘জনবিরোধী’ এমন প্রস্তাব কেউ আশা করেনি। ভূমির নামজারি করতে গেলে আয়কর রিটার্র্নের কপি বা প্রমাণ (একনলেজমেন্ট স্লিপ) দাখিলের কথা বলা হয়েছে নতুন বাজেট প্রস্তাবে।

কিন্তু বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এটাও কঠিন। কারণ দরিদ্র ও নিুবিত্ত মানুষের বেশিরভাগই আয়করের বাইরে রয়েছেন। তাই এই শর্ত পূরণ অনেকের পক্ষে সম্ভব হবে না। তাই ভূমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে নতুন করে প্রস্তাবিত উৎসে কর ও রিটার্ন দাখিলের বিধান বাতিলের দাবি করেছেন তারা। এটি বাতিল না হলে ভবিষ্যতে ভূমি বিরোধ চরম আকার ধারণ করবে। সামাজিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে