রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৪৪:২৩

চট্টগ্রামের সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতি

চট্টগ্রামের সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতি

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : টানা আট দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং একের পর এক পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগের জনজীবন ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যদিও অনেক এলাকায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে, তবুও কয়েক লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি। বসতবাড়ি, সড়ক, সেতু-কালভার্ট, কৃষিজমি, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট দেখা দিয়েছে দুর্গত এলাকাগুলোতে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই পাঁচ জেলায় এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম জেলা, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৬২ হাজারের বেশি মানুষ।

বন্যায় চট্টগ্রামে মাছের ক্ষতি শত কোটি টাকা
চট্টগ্রামে গত রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা। সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় সব গ্রামই বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। উপজেলা সদরসহ কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও বাজালিয়া ইউনিয়নের দিকে পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে থাকায় বহু সড়ক ডুবে রয়েছে এবং বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন ছিল।

বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম
সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী / গাফিলতির সুযোগ নেই, পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও কয়েকদিন পানিবন্দি ছিল। পানি ডিঙিয়ে রোগীদের চিকিৎসা নিতে আসতে হয়েছে। অধিকাংশ ইউনিয়নে এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। উত্তর ও দক্ষিণ আমিলাইশ, নলুয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের নিচতলা পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। এসব এলাকায় সংলগ্ন সাঙ্গু নদীতে পানির তীব্র স্রোত এবং ডলু খালের পাড় ভেঙে তলিয়ে গেছে লোকালয়।

বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম
আমিলাইশ ইউনিয়নের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের সব রাস্তা ডুবে গেছে। অল্প কিছু অংশে গাড়ি চলছে। উত্তর আমিলাইশ পুরো প্লাবিত। যাদের বাড়ি দোতলা তাদেরও নিচতলা ডুবে গেছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেছেন, উপজেলার পৌরসভা সদর এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি নামছে। তবে বাজালিয়া ইউনিয়নের দিকে পানি বাড়ছে। সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকায় সড়কগুলো এখনো পানির নিচে এবং বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর অংশে সড়কে শনিবারও পানি ছিল। এর মধ্যেই ধীর গতিতে গাড়ি চলছিল।

উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীতে পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। চাম্বল, ছনুয়া, সরল, পুঁইছড়ি, বাহারছড়া, বৈলছড়ি, গণ্ডামারা ও শেখেরখীল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। জোয়ারের পানি ও ভারী বর্ষণে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রহুল আমিন বলেন, ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে এক থেকে দুই ইঞ্চি পানি বেড়েছে। তবে দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫ মেট্রিক টন ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আঁকন জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলেও স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। রোববার (১২ জুলাই) সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাঁশখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত পুকুরিয়া, সাধনপুর, কালীপুর ও বাহাড়ছড়া ইউনিয়ন সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

পানিবন্দি ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষ

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৫টি উপজেলা ও মহানগরে এখনো ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। এর মধ্যে শুধু সাতকানিয়াতেই প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ মানুষ এবং বাঁশখালীতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়। মৃতদের মধ্যে বাঁশখালীতে তিনজন এবং আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও সাতকানিয়ায় একজন করে রয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম নগরে মারা গেছেন দুজন।

অপরদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার সম্মিলিত হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ২৩ জন। এর মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১১, বান্দরবানে ৬ এবং রাঙামাটিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন মোট ৩৯ জন।

দোহাজারী পৌরসভার সবজি চাষি রহমত উল্লাহ (৫৫) বলেন, সারা বছরের সম্বল সবজিক্ষেত চোখের সামনে নষ্ট হয়ে গেল। কোনোভাবেই পানি নামছে না। এখন কীভাবে দেনা শোধ করব, আর কীভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচব বুঝতে পারছি না।

চন্দনাইশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, চন্দনাইশে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। আমরা এ পর্যন্ত ১৪৫ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করেছি।

আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। চট্টগ্রামে ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে ২২ হাজার ৬০০ মানুষ। এছাড়া কক্সবাজারে ২ হাজার ৯৭৪, রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০, খাগড়াছড়িতে ২ হাজার ৯১৬ এবং বান্দরবানে ৪ হাজার ৭৪৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যাকবলিত সাত জেলার প্রশাসকদের জন্য সরকার ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং ২ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এ ছাড়া ৭ জুলাই থেকে দেশের ৬৪ জেলার প্রশাসকদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালীর একটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা আমেনা খাতুন বলেন, এখানে জায়গা পাওয়া দায়, আর খাবার ও সুপেয় পানির সংকট তো আছেই। বাচ্চাদের রোগবালাই শুরু হয়েছে; কিন্তু কোনো চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা মিলছে না। ঘরবাড়ি সব ডুবে যাওয়ায় আমাদের এখন আশ্রয়ই একমাত্র ভরসা।

ব্যাপক ক্ষতি কৃষিতে

টানা বৃষ্টি ও বন্যায় কৃষি খাতে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। পাঁচ জেলায় প্রায় ১৮ হাজার ৯৩৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আউশ ধানে, যার ১২ হাজার ৭৪৩ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, পান বরজ, আদা, হলুদসহ বিভিন্ন ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও হাজার হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শুধু কক্সবাজারেই কয়েক হাজার কৃষক আউশ ধান, আমনের বীজতলা, সবজি ও পান বরজের ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

সড়ক, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয়

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ৫১৪টি সড়ক এবং ১৭৬টি ব্রিজ-কালভার্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঁচ জেলার সম্মিলিত হিসাবে প্রায় ২৪১ কিলোমিটার জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক মেরামতে প্রায় ৩৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং স্থায়ী সংস্কারে প্রায় ২১০ কোটি ২৯ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় পানির তোড়ে একটি সেতু ভেঙে যায়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় যান চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয়।

পাঁচ দিন পর সচল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ

টানা বৃষ্টিতে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর রোববার থেকে আবার চালু হয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচল। ফলে কয়েকদিনের ভোগান্তির পর এই রুটে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘ পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আবার সচল হলো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ। রোববার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রার মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক হলো এই রুটের ট্রেন চলাচল। রেললাইন থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর মেরামত কাজ শেষে এই যাত্রা শুরু হয়। ফলে এই রুটের যাত্রীদের কয়েক দিনের অনিশ্চয়তা শেষ হয়েছে।

গত মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে টানা ভারী বর্ষণে রেললাইন ২০ ইঞ্চি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী এই একই পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৫) ট্রেনটি ষোলশহর-জানালীহাট সেকশনে আটকে পড়েছিল। একই সময় ফরেস্ট গেট এলাকায় রেললাইনের ওপর একটি গাছ উপড়ে পড়ায় ট্রেনটি সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার ভোগান্তির পর সেদিন মধ্যরাত ১১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ।

সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গত মানুষের সহায়তায় ত্রাণ ও নগদ অর্থ প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২৪ পদাতিক ডিভিশন, ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং ৭ স্বতন্ত্র এডি ব্রিগেডের সদস্যরা সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম
আইএসপিআরের তথ্য, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী এবং উত্তরের হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় দুদিন ধরে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কাজ চলছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৭ স্বতন্ত্র এডি ব্রিগেড বাঁশখালী ও ১০ পদাতিক ডিভিশন সাতকানিয়া, লোহাগড়া, বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলায় বন্যাদুর্গত মানুষকে সহায়তা দিচ্ছে। ২৪ পদাতিক ডিভিশন হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ ও সরকারি সহায়তা

সরকার ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাঁচ জেলায় ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন চাল, ৯১ লাখ টাকার বেশি নগদ সহায়তা এবং ৩৪ হাজার ৪৭০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই বিতরণ করা হয়েছে ৫৪০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ৩০ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৭ হাজার ২৫০ প্যাকেট রান্না করা খাবার। এ ছাড়া শিশু খাদ্য, ডায়াপার, স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীও বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারি মজুতেও পর্যাপ্ত চাল, নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সরকারের আশ্বাস

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ খারাপ’ উল্লেখ করে বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসন যে ধরনের সহায়তা চাচ্ছে, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে তা সরবরাহ করছে এবং প্রয়োজন হলে আরও সহায়তা দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আদিত্য ইসলাম অমিতও দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করেন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার নির্দেশনা দেন।

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন জানিয়েছেন, পানি পুরোপুরি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে। এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যদিও অনেক এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে, তবুও চট্টগ্রাম বিভাগের বিস্তীর্ণ জনপদ এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। বিদ্যুৎ, নিরাপদ পানি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এখন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। নদনদীর পানি ধীরগতিতে নামছে। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাঈল ভূঁইয়া বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৪২ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টির তীব্রতা কমে স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে পারে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে