বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭:৫৪

শেষমেষ কী সিদ্ধান্ত পে স্কেল নিয়ে?

শেষমেষ কী সিদ্ধান্ত পে স্কেল নিয়ে?

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নবম জাতীয় পে স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতীক্ষা আরো বাড়ল। পে স্কেল বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুপারিশমালা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সচিব কমিটি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গতকালও এ সংক্রান্ত একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে। গতকালও বাস্তবায়ন সুপারিশমালা চূড়ান্ত করতে পারেনি সচিব কমিটি। 

এদিকে আর্থিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নতুন পে স্কেল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ। নতুন পে স্কেল পয়লা জুলাই বাস্তবায়ন দেখানো হলেও গেজেট প্রকাশের জন্য আরো অপেক্ষা করতে হবে।

প্রথম ধাপে বেসিক এবং পরের দুই ধাপে অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন ২১ লাখ সরকারি চাকরিজীবী। অর্থবিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানা যায়, গতকালের বৈঠকে পে স্কেল বাস্তবায়নের নানা প্রতিবন্ধকতা, সরকারের মধ্যকার আর্থিক সংকট, বাস্তবায়নের ধাপসহ খুঁটিনাটি নানা প্রসঙ্গে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ কমিটি সরকারকে একটি সুপারিশমালা দেবে।

সেই সুপারিশ অনুসরণ করেই মূলত নতুন এ পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়তন করা হবে। কিন্তু গতকালের বৈঠকেও তা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এর জন্য পরের সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসবে সচিব কমিটি। 

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ১২ জুলাই থেকে ঢাকা সফর করছে। দলটি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছে।

সেখানে চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিরোধিতা করেছে প্রতিনিধি দলটি। এতে একটি গোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা আরো বাড়বে। যার ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে আনা আরো কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করে আইএমএফ।
সূত্র জানায়, গতকালের সভায় পে-কমিশনের সুপারিশকৃত নতুন পে স্কেলে স্থান পাওয়া ২০টি গ্রেড নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে গ্রেডের সংখ্যা কম-বেশি করা যায় কি না সে বিষয়েও মতামত উঠে এসেছে। সুপারিশ অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের বেতন হবে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা। এবং প্রথম গ্রেডের বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা (নির্ধারিত)।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কত সময় নেবে বা কয়টা বৈঠক করবে সেটা তো তাদের স্বাধীনতা। এটা নিয়ে তারা কাজ করছেন। তাদের সুপারিশ পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। এর জন্য আরো কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। 

অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো বলছে, নতুন পে স্কেল অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করে গেলেও বর্তমান বিএনপি সরকার তা বাস্তবায়নে বেশ আন্তরিক। এজন্য সদ্য শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। নতুন পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা এবং পেনশনভোগীদের সমন্বিত সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও আর্থিক সংকটের কারণে এত উচ্চ হারের বেতন কাঠামো এই মুহূর্তে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের হাতে যথেষ্ট আয়ের সংস্থান আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ। সংস্থাটি মনে করে অর্থের সংস্থানের উৎস ঠিক না করে এই বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে গেলে সংকট আরো বাড়তে পারে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি চাপ আরো বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে স্কেলের মূল বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসংক্রান্ত হিসাব কষতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার! এজন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি বারবার বৈঠক করেও বাস্তবায়নসংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করতে পারছে না। অনেকটা বাধ্য হয়েই কিছু কাটছাঁট করবে। এ জন্য সুপারিশ করা গ্রেডগুলোতে মূল বেতন ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা এবং ভাতাদিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত পে স্কেল বাস্তবায়ন তিন ধাপে করা হতে পারে। যদিও এতে প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেসব অসুবিধা কাটিয়ে তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করবে সচিব কমিটি। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। পরে অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করবে সরকার। তবে ১ জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন দেখিয়ে সে হিসেবে বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

জানা গেছে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সে অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বর্তমান সরকার সেই সুপারিশ হুবহু গ্রহণ করেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি দেশের রাজস্ব, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি, সরকারি ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন খসড়া তৈরি করেছে। বর্তমানে সেই খসড়ার ভিত্তিতেই গেজেট চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে