শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০৪:০২

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এবার যা জানা গেল নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এবার যা জানা গেল নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশমালা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি এ-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বিবেচনা, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল এবং প্রযুক্তিগত জটিলতা- সব মিলিয়ে পরিকল্পনা ঠিক করতে হিমশিম খাচ্ছে কমিটি।

ফলে প্রকাশ হচ্ছে না গেজেট। আর গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীর মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। আগস্ট না অক্টোবর, কবে প্রজ্ঞাপন জারি হবে, সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই এখন নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ করা মূল বেতনের (বেসিক) ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল।

তবে বাস্তবায়নের হিসাব করতে গিয়ে দেখা যায়, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কমিশনের সুপারিশের মাত্র অর্ধেক কার্যকর করলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি খুবই সামান্য হবে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মোট বেতন কমে যাওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিজীবীদের আপত্তির পর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পরিবর্তন করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিন ধাপের পরিবর্তে দুই ধাপে বাস্তবায়ন করার চিন্তাভাবনা করা হয়। সে ক্ষেত্রে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করার কথা ছিল। তবে এ পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এখন আবার তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী দুই ধাপে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, এমন সমালোচনা শুনছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে চলছি, সেটা কেউ বলে না। অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা যে বেতন-ভাতা পান, তার প্রায় সম্পূর্ণ অংশই প্রতি মাসে খরচ হয়ে যায়। সঞ্চয় হয় খুবই কম।- শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা 

অবশ্য ১৫ জুলাই সচিব কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এটিও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাস্তবায়নের ধাপ, সফটওয়্যার কাঠামো ও প্রশাসনিক জটিলতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই সচিব কমিটি সরকারের কাছে একটি সুপারিশমালা দেবে। সেই সুপারিশের ওপরই নির্ভর করছে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না কি একবারে বাস্তবায়ন করা হবে।

সেই সঙ্গে বৈঠকে বেতন কমিশনের সুপারিশ করা ২০টি গ্রেড নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। গ্রেডের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকবে না কি কমানো বা বাড়ানো হবে, সে বিষয়েও মতামত উঠে এসেছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা এবং প্রথম গ্রেডের বেতন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করে। সফরকালে প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে। তারা চলমান আর্থিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তবে আইএমএফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে