রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-জল্পনা চলছেই। এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে এরপর কী হবে? কে নেবেন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব? কীভাবে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি? এসব বিষয়ে বাংলাদেশের সংবিধানে সুস্পষ্ট কী বিধান রয়েছে?
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। অর্থাৎ, পদত্যাগ কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধানের সব সাংবিধানিক দায়িত্ব তার ওপরই বর্তাবে।
বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে তিনিই সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তবে এই দায়িত্ব স্থায়ী হবে না। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হবে এবং স্পিকার তার সাংবিধানিক দায়িত্বে ফিরে যাবেন।
বাংলাদেশে এর আগে ২০০২ সালে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করলে তৎকালীন অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রয়াত ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৭৮ দিন এ দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে সংবিধানে বর্ণিত পদত্যাগ-পরবর্তী প্রক্রিয়াও এখনো শুরু হয়নি। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রশ্নে সংবিধান অত্যন্ত স্পষ্ট। তাই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হবে।