এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, দেশের সব রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্রুত সময়ের মধ্যে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল কটন মিল পুনরায় চালু করা হবে। একইসঙ্গে মির্জাপুরের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় আধুনিকায়নের আওতায় আনা হবে।
শনিবার (০১ আগস্ট) সকালে দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে বন্ধ থাকা মির্জাপুরের টাঙ্গাইল কটন মিল পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) খাতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা নির্বিঘ্নে শিল্পকারখানা পরিচালনা করতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দীর্ঘ ২০ বছর পর দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিগত সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে এবং এ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি ভালো অবস্থানে যেতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সে পর্যন্ত দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
তাঁতশিল্পের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, তাঁত বোর্ডের উদ্যোগে টাঙ্গাইলে একটি বেসিক সেন্টার ও ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করা হবে। পাশাপাশি তাঁতশিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) সচিব এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পের পরিচালক কাজী ফিরোজ হোসাইন জানান, স্বাধীনতার আগে প্রায় ২৫ একর জমির ওপর টাঙ্গাইল কটন মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির ২৭ নম্বর আদেশে কারখানাটি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বিটিএমসির ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হওয়ার পর ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ভাড়া ও বিভিন্ন পদ্ধতিতে কারখানাটি চালু ছিল। ১৯৯৮ সাল থেকে এটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
এসময় টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব, মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ, সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আরিফ, সহসভাপতি আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাদের শিকদার, গোড়াই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জুয়েল এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুর রহমান স্বপনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।