এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : এসএসসি ফল প্রকাশের দুদিন আগে বিদ্যুৎপৃষ্টে প্রাণ হারায় শিহাব। প্রকাশিত এসএসসির ফলে তিনি জিপিএ ৫ পেয়েছে।
এ খবরে তাকে হারানোর ক্ষতটা আরো গভীর হয় স্বজনদের। স্বজনরা বলেন, ‘শিহাব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। বেঁচে থাকলে শিহাব অনেক খুশি হত।’
শিহাব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের মানরা গ্রামের গাজীর বাড়ির তফাজ্জল হোসেনের বড় ছেলে।
পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরে বসবাস করত সে। এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ঢাকা বিমানবন্দর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়ে সে জিপিএ ৫ পেয়েছে। তবে ফল প্রকাশিত হওয়ার দুদিন আগে (৮ আগস্) চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টে তার মৃত্যু হয়।
শিহাবের চাচা জিয়াউল হক কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘শিহাব এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাবে—এমন প্রত্যাশা আমাদের সবারই ছিল।
শিহাব বেঁচে থাকলে আজ বাড়িটা খুশিতে ভরে উঠত। সবাই তাকে নিয়ে আনন্দ করত, মিষ্টি খাওয়াত। কিন্তু রেজাল্টের খবর আমাদের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এই শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হবে না।’
পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার কথা জানিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
আমরা পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল শিহাব। ৮ আগস্ট ছিল তার চাচার বৌভাতের অনুষ্ঠান। সেদিন দুপুরে গোসল শেষে বাড়ির ছাদে ভেজা কাপড় শুকাতে দিতে যায় সে। ছাদের কার্নিশে কাপড় নাড়ার সময় ডেকোরেশনে ব্যবহৃত ছেঁড়া মরিচবাতির তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় শিহাব। একপর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় সে। গুরুতর আহত শিহাবকে দ্রুত উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।