মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৬:১৬

শেখ হাসিনা-হাছান মাহমুদের ফোনালাপ উপস্থাপন

শেখ হাসিনা-হাছান মাহমুদের ফোনালাপ উপস্থাপন

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যদের মাঠে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

এ-সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের রেকর্ড সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।

ওবায়দুল কাদেরসহ আট আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শুনানির সময় ফোনালাপটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের দমন, দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান এবং অগ্নিসংযোগের পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনার কথা উঠে এসেছে।

ফোনালাপে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্থানে আবার জড়ো হচ্ছে এবং শুধু আগুন দিয়ে পোড়াবে সব। জবাবে হাছান মাহমুদ সম্মতি জানান।

শেখ হাসিনা এরপর দলীয় নেতাকর্মীদের এলাকায় অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় লোক ঠিক করো, সব নেতাকর্মীদের এভাবে ব্যবস্থা করো। প্রত্যেক এমপিকে ডাকো, খবর দাও, প্রত্যেক এলাকায় যার যার প্রটেকশন দিতে হবে।

হাছান মাহমুদ ওই নির্দেশনা ওবায়দুল কাদেরকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। পরে শেখ হাসিনা বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের প্রসঙ্গ তুলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের কথাও বলেন।

ফোনালাপে তিনি বলেন, সেতু ভবনে আবার আগুন লাগানো হচ্ছে। এরপর তিনি র‌্যাব পাঠানোর কথা উল্লেখ করেন এবং যেসব এলাকায় জমায়েত রয়েছে, সেখানে র‌্যাব মোতায়েনের নির্দেশনার কথা জানান।

আলোচনার একপর্যায়ে শেখ হাসিনা পালটা অগ্নিসংযোগের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং সেগুলো চিহ্নিত করার কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ওদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কী কী আছে, খুঁজে বের করো।

ফোনালাপের শেষ দিকে শেখ হাসিনার কণ্ঠে শোনা যায়, আজ তাদের একটাই কাজ, সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দেবে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে