মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০২:২০:৪০

আর্জেন্টিনা ফাইনালে ইচ্ছাকৃতভাবে হেরেছে? কী ঘটেছিল ড্রেসিংরুমে?

আর্জেন্টিনা ফাইনালে ইচ্ছাকৃতভাবে হেরেছে? কী ঘটেছিল ড্রেসিংরুমে?

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের পর থেকে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনা এই ম্যাচ ইচ্ছাকৃতভাবে হেরেছে, এমন গুঞ্জন ফাইনালের শেষ বাঁশির পর থেকেই চলছে। তবে এবার আর্জেন্টাইন সাংবাদিক রেনজো পান্তিচ এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। সে ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমের ঘটনা নিয়ে তিনি দিয়েছেন নতুন তথ্য।

রেনজো বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য আছে, তাতে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনি। কারচুপির তত্ত্বে আমি বিশ্বাস করি না। আপনারা চাইলে ভেতরে আসলে কী ঘটেছিল, সেই সত্যিটাই বলি।’

রেনজো জানান, ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপের সময় তিনজন খেলোয়াড় শরীরে টান অনুভব করেন। কোচের সঙ্গে শেষ আলোচনার আগে খেলোয়াড়রা চিকিৎসকদের বলেন, তারা সমস্যায় পড়েছেন। কোচও এই বিষয়ে জানতেন।

এর মধ্যে দুইজনের নাম বলেছেন পান্তিচ। তারা হলেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তাদের দুজনেরই পরে চোট গুরুতর হয়ে যায়। তবে তৃতীয় খেলোয়াড়ের নাম রেনজো নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, নামটা আমার কাছে নেই।’ তবে তিনি জানান, ওই খেলোয়াড় সম্ভবত মাঝমাঠের কেউ ছিলেন। কারণ মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা তখন ক্লান্ত ছিলেন।

রেনজো বলেন, ‘ম্যাচ শুরুর আগে ড্রেসিংরুমে কোচ স্কালোনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনেক কথা বলতেন। কৌশল নিয়ে খেলোয়াড়দের মতামতও তিনি শুনতেন। এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছিল। পারেদেসের সঙ্গে একবার এমন কথোপকথন ভাইরাল হয়েছিল। দি পল, মেসি এবং দিবু মার্তিনেজের সঙ্গেও এমন হয়েছে।’

তিনি জানান ম্যাচের আগে চোট পেয়েছিলেন একাধিক খেলোয়াড়। তার ওপর ছিল টানা ম্যাচ খেলার শারীরিক ধকলও। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা জানত, স্পেন কীভাবে খেলবে। কারণ ফাইনালেও তাদের মুখোমুখি হতে হতো। স্কালোনি আগে থেকেই সেই ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ফাইনালে সেই একই কৌশলে খেলা সম্ভব ছিল না। কারণ কিছু খেলোয়াড় শারীরিকভাবে ক্লান্ত ছিলেন এবং কেউ কেউ চোটেও ভুগছিলেন।’

সে কারণে কৌশল বদলে রক্ষণাত্মক খেলার সিদ্ধান্ত নেন স্কালোনি। এ বিষয়ে পান্তিচ বলেন, ‘তাই স্কালোনি পুরো বিশ্বকাপে যে কৌশল নিয়েছিলেন, সেই একই কৌশল আবার বেছে নেন। এই কৌশল ছিল রক্ষণ সামলে যতদূর সম্ভব খেলা টেনে নেওয়া। লক্ষ্য ছিল ১২০ মিনিট পার করে টাইব্রেকার পর্যন্ত পৌঁছানো।’

স্পেনের বিপক্ষে পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হয়েছিল। তাদের বিপক্ষে শটও কম নেওয়া হয়েছিল। স্কালোনির ধারণা ছিল, আর্জেন্টিনা যদি আক্রমণাত্মক খেলে বা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম গোলের পর যেভাবে খেলেছিল সেভাবে খেলে, তাহলে চারটি গোল হজম করতে হতে পারে।

এই কৌশল নিয়ে দলের মধ্যে মতবিরোধও হয়েছিল। দিবু মার্তিনেজ এই পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘না, আমি একমত নই। আমাদের আক্রমণে যেতে হবে।’ আরেকজন ফুটবলারও বলেন, ‘আমাদের আক্রমণে যেতে হবে, গোল করতে হবে। এটা বিশ্বকাপ ফাইনাল। যেভাবেই হোক আমরা এখানে এসেছি। কিন্তু আক্রমণ করার সামর্থ্য আমাদের আছে।’

এই আলোচনা এবং মতবিরোধের মধ্যেই মাঠে নামার আগে দরজার সামনে মেসি দলকে উজ্জীবিত করার কথা বলেন। মেসি বলেন, ‘বন্ধুরা, সব ভুলে যাও। শান্ত থাকো। বল নিয়ে খেলো। আমরা রিল্যাক্স থেকে খেলব।’

রেনজো শেষে বলেন, ম্যাচের কৌশল নিয়ে আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে দলের মধ্যে এই বিতর্ক হয়েছিল।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে