বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০:০৫

কত শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে, জরিপের ফলাফল প্রকাশ

কত শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে, জরিপের ফলাফল প্রকাশ

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাস পার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলীয় ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

এই ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে জরিপ চালিয়েছে ডপলার রিসার্চ বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের জরিপে উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সন্তুষ্ট দেশের ৬৬.৩ শতাংশ মানুষ। জরিপটিতে সহায়তা করেছে ইনোভিশন কনসালটিং। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসালটিংয়ের সহায়তায় পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল গতকাল বুধবার প্রকাশ করা হয়।

জরিপে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোরালো সমর্থন পাওয়া গেলেও সরকারের কাজ এবং দেশ কোন পথে চলছে—এ দুই প্রশ্নে সন্তুষ্টির হার তুলনামূলক কম। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে মানুষ আশাবাদী; কিন্তু একই সঙ্গে তাঁরা বলছেন, অর্থনৈতিক অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন উত্তরদাতারা। জরিপের মাঠ পর্যায়ের কাজ পরিচালিত হয়েছে চলতি আগস্টেই।

জরিপকালে প্রাপ্তবয়স্কদের একটি প্যানেলকে সরাসরি ১০ হাজার ৪১৩টি কল করা হয়। এসংক্রান্ত ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ডপলার রিসার্চ বলছে, সরকারের ১৮০ দিনের কাজ নিয়ে জনমত যাচাইয়ের জরিপে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাকে বলা যায় ‘সতর্ক আশাবাদ’। মানুষ প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কাজে সন্তুষ্ট; কিন্তু দেশ কোন পথে চলছে, তা নিয়ে তাঁরা বিভক্ত। আর দৈনন্দিন জীবনে উন্নতি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে তাঁরা এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টি : জরিপে অংশ নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ৬৬.৩ শতাংশ বলেছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করছেন।

২১.৬ শতাংশ বলেছে, তিনি ভালো করছেন না। বাকি ১২.১ শতাংশের মতামত নেই কিংবা তারা উত্তর দিতে চায়নি।
সরকারের কাজে সন্তুষ্টির তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির হার বেশি। এমনকি অন্য দলের সমর্থকদের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে ৬৫.৫ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে ৬৫.৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে ৫২.৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সন্তুষ্ট। সরকারের কাজকে ভালো বলেছে ৫৪.৫ শতাংশ, খারাপ বলেছে ৩২.৯ শতাংশ। প্রতিটি দলীয় সমর্থকগোষ্ঠীতেই একই ক্রম দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান সরকারের ওপর, আর সরকারের অবস্থান দেশের গতিপথ নিয়ে মূল্যায়নের ওপর।

দেশ সঠিক পথে চলছে, বলছে জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকের কিছু কম : জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৮.৬ শতাংশ মনে করে, দেশ সঠিক পথে চলছে, আর ৩৫.৬ শতাংশ মনে করে, ভুল পথে।

খাদ্য, জ্বালানির মূল্য এবং বিদ্যুৎ নিয়ে নাগরিকরা উদ্বিগ্ন : দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করা হলে ৫৯.৫ শতাংশ বলেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কথা এবং ৫৯.১ শতাংশ বলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের কথা। তৃতীয় স্থানে আইন-শৃঙ্খলা (৩২.৬ শতাংশ) এবং চতুর্থ স্থানে কর্মসংস্থান (৩০.৮ শতাংশ)।

যে দুটি বিষয়কে সবচেয়ে বড় সমস্যা বলা হয়েছে, সেই দুটির ক্ষেত্রে সরকারের কাজের মূল্যায়ন সন্তোষজনক নয়। ৮৯.৪ শতাংশ বলেছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা খারাপ হচ্ছে, ৭৯.৬ শতাংশ বলেছে জ্বালানি ও গ্যাসের ক্ষেত্রে এবং ৬৯.১ শতাংশ বলেছে নিত্যপণ্যের মূল্যের ক্ষেত্রে।

সামনের বছর ভালো হওয়ার প্রত্যাশা : জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৬.৫ শতাংশ বলেছে, এক বছর আগের তুলনায় তাদের পরিবারের অবস্থা খারাপ হয়েছে; ১৭.৫ শতাংশ বলেছে ভালো হয়েছে। সামনের ১২ মাসে অবস্থা ভালো হবে বলে আশা করছে ৩৮.১ শতাংশ, খারাপ হবে বলে মনে করে ২৪.৩ শতাংশ। দেশ নিয়ে ৪৮.৪ শতাংশ এক বছর আগের চেয়ে বেশি আশাবাদী, ৩৯ শতাংশ কম আশাবাদী এবং মাত্র ৬.২ শতাংশ বলেছে কিছুই বদলায়নি।

ফ্যামিলি কার্ড, করনীতি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতি সমর্থন : ফ্যামিলি কার্ডকে সমর্থন করেছে ৭৮.৬ শতাংশ, করনীতিকে সমর্থন করেছে ৭০.৭ শতাংশ এবং ৭০.০ শতাংশ মনে করে সরকারের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা উচিত।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে