এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বিগত ১৭ বছর স্বাস্থ্য খাতে কোনো জবাবদিহি ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, আমরা মাত্র ৬ মাসে এই খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি ফেরানোর কাজ শুরু করেছি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে এসে এ কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ‘জনবল সংকট’ নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনসেবা নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে আরো চিকিৎসক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে।
নার্স ও ফার্মাসিস্টসহ আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাত একটি বড় ও দক্ষ চিকিৎসাবহর পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। ডায়ালিসিস সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো, শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের তীব্র সংকট দূর করতে আড়াই হাজার নার্স ও আড়াই হাজার ফার্মাসিস্টসহ প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ডায়ালিসিস সেবার মান উন্নত করার মাধ্যমে বিশেষ করে ঢাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালিসিস বেড স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ডায়ালিসিস সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা লেভেলে ৬০টি ডায়ালিসিস মেশিন দৈনিক ৩ শিফটে প্রায় ১৮০ জন রোগীকে সেবা দিতে পারবে। এ ছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ১০টি করে ডায়ালিসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো জানান, হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামো ও আধুনিকায়নে উপজেলা পর্যায়ে শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫১ শয্যা করার সংশোধিত ডিপিপি (ডিপ্রোজেক্ট প্রোফাইল) অনুমোদন ও টেন্ডারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
প্রতিটি ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালে থাকছে প্রসূতিদের চিকিৎসায় ২৫টি শয্যা এবং শিশুদের জন্য আলাদা ২০টি বিশেষ শয্যা। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড এবং সমলিঙ্গের ফিজিওথেরাপিস্ট ও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধান। আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড ও উন্নত প্যাথলজি ল্যাব সমৃদ্ধ ৯ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন।
প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনুমোদনহীন কার্যক্রম এবং অনিয়ম রোধে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিবন্ধনের শর্ত না মানলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও ডিসি-সিভিল সার্জনদের সমন্বয়ে দেশব্যাপী মোবাইল কোর্ট অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতকে আরো সুসংগঠিত ও আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থ্যাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যার নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।