এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি একাডেমিক শিক্ষার বাইরে সার্বিক দক্ষতা বাড়াতে সারা বছর খেলাধুলা, সহ-পাঠ্যক্রমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) মাউশির উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিপত্রটি দেশের সব আঞ্চলিক পরিচালক, উপপরিচালক (মাধ্যমিক) ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলা, সহ-পাঠ্যক্রমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিতে হবে। এসব কার্যক্রম একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের সুবিধাজনক সময়ে সারা বছর পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাউশির নির্দেশনায় মোট ৩৫টি কার্যক্রমের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্রীড়া কার্যক্রম রয়েছে ১৫টি। এগুলো হলো—ফুটবল, ভলিবল, দাবা, ক্রিকেট, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, হ্যান্ডবল, বাস্কেটবল, হকি, গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী খেলা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, তায়কোয়ান্দো ও মার্শাল আর্ট।
সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে হামদ ও নাত, বাংলা ও ইংরেজি বক্তৃতা ও বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, দেয়ালিকা তৈরি, বই পড়া, দৈনিক পত্রিকা পাঠ, সৃজনশীল লেখা, পরিবেশ সুরক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, গণিত অলিম্পিয়াড এবং ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি।
এ ছাড়া সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আওতায় সঙ্গীত, আবৃত্তি, একক অভিনয়, কুইজ, নৃত্য, গ্রাফিতি অঙ্কন, উৎসব ও ঐতিহ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান এবং চিত্রাঙ্কন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিপত্রে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বয়েজ স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্ল গাইডস, বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক ক্লাব, স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিক্ষা ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাব পরিচালনায় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
মাউশি মনে করে, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সহ-পাঠ্যক্রমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা বিকাশে সহায়ক হবে।