এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সরকারি চাকরিজীবীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী, একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বর্তমান সুযোগ কমিয়ে আট বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে একই গ্রেডে ছয় বছর চাকরির শর্ত রাখা হচ্ছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পদোন্নতিযোগ্য পদে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা কর্মচারী পদোন্নতি না পেলে চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার উচ্চতর গ্রেড সুবিধা পাবেন। আর যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই এবং ‘ব্লকড পদ’ হিসেবে ঘোষিত, সেসব পদে কর্মরতরা চাকরিজীবনে তিনবার এ সুবিধা পাবেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথমবার আট বছর, দ্বিতীয়বার আরও ছয় বছর এবং তৃতীয়বার পরবর্তী আট বছর চাকরি করার পর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এদিকে নতুন পে স্কেলে মূল বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রেড ২০ এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড ১ এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় বাড়ি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মোবাইল ভাতা, যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতায়ও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বাড়ি ভাড়া ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ার কারণে শতাংশের হার কমলেও বাড়ি ভাতার টাকার অঙ্ক বাড়তে পারে।
চিকিৎসা ভাতাতেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে সব কর্মচারী মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সি চাকরিজীবীরা ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সিরা ৪ হাজার টাকা পাবেন। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিদের ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিদের ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রথমবারের মতো সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। বাংলা নববর্ষ ভাতা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চরভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল থাকলেও এসব ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ প্রণোদনাও নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বাতিল হবে। এই প্রণোদনা প্রথমে ৫ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে।
নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের হিসাবে, নতুন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।