এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বিতর্কিত মন্তব্যের কথোপকথন সংবলিত অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসানকে বৃহস্পতিবার প্রত্যাহার করা হয়। অডিওটি তার কণ্ঠের কি না, তা যাচাই করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তে একজন উপপুলিশ কমিশনারকে (ডিসি) প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওসি রাকিবুলকে প্রত্যাহারের পর বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে ডিবির একটি সূত্র জানায়। তবে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
সূত্রটি আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রাকিবুল দাবি করেছেন ছড়িয়ে পড়া অডিওর বক্তব্য তার নয়। ফলে অডিওটির সত্যতা এবং কণ্ঠস্বর যাচাই করতেই সেটি সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাকিবুলের কথিত বক্তব্যের বিষয়ে একজন ডিসিকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার কমিটি গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নেই।’
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে ওসি রাকিবুল পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে সরকার, প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, ওসি পদায়ন এবং বদলিতে অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগও করা হয়।
অডিওর একটি অংশে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল।’
এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও মন্তব্য করা হয়। ‘মনির’ নামে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িচালক ওসি পদায়নে ভ‚মিকা রাখছেনÑএমন অভিযোগও শোনা যায় অডিওতে। ওসি পদায়ন ও বদলি নিয়ে আরও নানা অভিযোগ করেন ওই ব্যক্তি। সাবেক আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের সময়কার ওসি বদলি নিয়েও মন্তব্য করা হয়।
এছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও অডিওতে বলতে শোনা যায়। তবে অডিওটির সম্পূর্ণ বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অডিওটি নিজের নয় বলে দাবি করেন রাকিবুল। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, অডিওটির ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত যাচাই চলছে। পরীক্ষায় অডিওটি সত্য এবং রাকিবুল হাসানের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।