এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও সক্রিয় করতে নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাবেন। এর অর্ধেক থাকবে ব্যাংকঋণ এবং বাকি অর্ধেক অনুদান।
দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৫ হাজার সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। দেশের অন্যান্য জেলার অন্তর্ভুক্ত উপজেলার উদ্যোক্তারা ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি-উদ্যোগ’-এর বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করে। পরে তা দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় একজন নির্বাচিত উদ্যোক্তার ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়নের সুযোগ থাকলেও সবাই সর্বোচ্চ এ পরিমাণ পাবেন না।
সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ব্যাংকঋণ এবং ৫০ শতাংশ অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। অর্থাৎ একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং ১০ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন।
নীতিমালায় উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসায় ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে তিনি ৬ লাখ টাকা ঋণ ও ৬ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন। উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ বা অন্য কোনো বৈধ উৎসের অর্থ থাকলেও তা সামগ্রিক অর্থায়ন পরিকল্পনায় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
আবেদন করবেন যেভাবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে।
আবেদন করা যাবে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফশিলি ব্যাংকের শাখায়। যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকেই হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র দিতে হবে—
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি;
সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কপি;
দক্ষতা উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ, যদি থাকে;
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র।
স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবেও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।
নির্বাচিত হলেই ঋণ নিশ্চিত নয়
কর্মসূচিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে।
কোনো উদ্যোক্তার ঋণ আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে এর কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
আবেদনকারীর ব্যবসার ধরন, সম্ভাব্যতা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের বিষয়ে প্রস্তাব মূল্যায়ন করে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা ও প্রস্তাবিত ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
শুধু অর্থ নয়, মিলবে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে তরুণদের শুধু অর্থায়ন নয়, ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। প্রত্যেক আবেদনকারীকে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
নির্বাচিত উদ্যোক্তারা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরির সহযোগিতা এবং বাজার সংযোগের সুযোগ পাবেন।
তদবির করলে বাতিল হবে আবেদন
কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো পর্যায়ে তদবির করা যাবে না। তদবিরের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
এ ছাড়া ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের পরিচিতি যাচাই, সিআইবি এবং লেনদেন তদারকির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।