এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরাও রয়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সাড়ে ৮টার দিকে তাঁকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত সময় রাত ৮টা ২৩ মিনিটে ফ্লাইটটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। সেখানে ছয় ঘণ্টার যাত্রাবিরতি শেষে রাত ২টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার পথে রওনা দেয়।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।
নিউইয়র্কে চার দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রফতানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।
সফরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্বব্যাংক ও ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও নতুন অংশীদারত্বের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও একাধিক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরকালে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি নারীনেতৃত্ব, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং ধাত্রীবিদ্যা-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।