এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে এবারের শুদ্ধি অভিযানের ‘লাইন অব অ্যাকশন’ আরও কঠোর। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা, অপরাধের ক্ষেত্রে পদ-পদবি বা রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বিবেচ্য বিষয় হবে না। এরই মধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। সামনে আরও কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী ও দলীয় নেতার কর্মকাণ্ডও নজরদারিতে রয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তরের হাইপ্রোফাইল কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর রাত পোহাতেও খবর আসে পদত্যাগপত্র নিয়ে সংসদের পথে ছুটছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। দুপুরে যখন এ খবর গণমাধ্যমে আসে, তখন তা মুহূর্তেই টক অব দ্য কান্ট্রিতে রূপ নেয়।
দলীয় শৃঙ্খলাসহ সরকার ও দলের ভাবমূর্তি সুরক্ষার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন কঠোর সিদ্ধান্তে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় নড়েচড়ে বসেন দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকেন তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। অপরদিকে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় প্রশংসায় ভাসতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র যুগান্তরকে জানায়, চাঁদা, দখলবাজিসহ সব ধরনের ‘বাজিকর’দের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও যে কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তিনি কোন পদে আছেন, সেটি দেখা হবে না। বরং তার অপরাধের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর মিরপুরে সম্প্রতি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারদলীয় সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে। এছাড়া দলের স্থানীয় পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন। পুরো ঘটনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা নেওয়ার পর তিন দিনের মাথায় বুধবার থেকে সাংগঠনিক অ্যাকশন শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আরও যাদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ কিংবা প্রমাণ সামনে আসবে, তাদের পরিণতিও একই হবে। এছাড়া দলের বিতর্কিতদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীসহ সারা দেশে যেসব নেতাকর্মী দখল, চাঁদাবাজি কিংবা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকেও বিতর্কিত নেতাদের তালিকা এবং তাদের কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, দলীয় শৃঙ্খলা সুরক্ষার এই অভিযানে ‘ঝুঁকিতে’ আছেন আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতা। তাদের বিষয়টিও তদন্তাধীন। এছাড়া সতর্ক করা হয়েছে দলের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকেও। দলের হাইকমান্ড থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কাউকেই কোনো ধরনের সাংগঠনিক সুরক্ষা দেওয়া হবে না। নেতা যত বড়ই হোক, সাংগঠনিক শাস্তির আওতায় আসতেই হবে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘বিএনপি দেশ ও জনগণের জন্য রাজনীতি করে। সেখানে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা করে, তাহলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের দলের কিছুসংখ্যক উচ্চাভিলাষী নেতাকর্মী শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন; যারাই অপরাধ করবেন, তাদের কোনো পরিচয় দেখা হবে না-কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’