এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হলেও কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ৬ হাজারের বেশি কোটা বরাদ্দ হয়েছে।
বরাদ্দ পাওয়া কোটার বিপরীতে নিয়োগকর্তাদের ডিমান্ড লেটার সত্যায়নের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনে আবেদনও জমা পড়েছে। কিছু ডিমান্ড লেটার ইতোমধ্যে সত্যায়ন করা হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তের কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখনো বাকি রয়েছে।
এদিকে সরকার প্রথম ধাপে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে জিরো মাইগ্রেশন কস্টে ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এরপর বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমেও কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে এবার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। এ কারণে জিরো কস্টে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫০ জন মালয়েশীয় নিয়োগকর্তা বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য কোটা বরাদ্দের আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে ৬ হাজারের বেশি কর্মীর কোটা বরাদ্দ হয়েছে। নিয়োগকর্তারা প্রয়োজনীয় সরকারি ফি ও লেভি পরিশোধ করে নিয়ম অনুযায়ী কোটা পেয়েছেন। এরপর ডিমান্ড লেটার সত্যায়নের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরাদ্দ পাওয়া কোটার কর্মীদের পাশাপাশি জিরো কস্টে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগটি সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ আরও বাড়বে। এতে একদিকে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে কর্মী প্রেরণও চালু রাখা সম্ভব হবে।
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মী থাকায় নতুন করে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা ও ডিমান্ড লেটার যথাযথভাবে যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বায়রার নেতারা বলছেন, মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ ধরে রাখতে দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, ‘আমরা আগে চাই রাষ্ট্রীয় সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রথমে জিরো কস্টে ১০ হাজার শ্রমিক যাবে। তারপর বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা শ্রমিক পাঠাবেন।’
সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিরো কস্টে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ সফল হলে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের আর্থিক চাপ কমবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের মাধ্যমে নিয়মিত কর্মী প্রেরণ চালু রাখার মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।