সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:১৪:০৮

মোবাইল ফোনে ইমার্জেন্সি ব্যালান্স ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব

মোবাইল ফোনে ইমার্জেন্সি ব্যালান্স ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : মোবাইল ফোনে জরুরি প্রয়োজনে নেওয়া ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সর্বোচ্চ সীমা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশের মোবাইল অপারেটরগুলো। 

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০০ টাকার বেশি থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স নিলে সর্বোচ্চ ১০ টাকা সেবা ফি দিতে হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে প্রযোজ্য কর। ফলে করসহ ফি দাঁড়াতে পারে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ কমিশন সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অপারেটরদের যুক্তি, বর্তমান সীমায় অনেক সময় গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় ডেটা বা মিনিটের প্যাকেজ কিনতে পারেন না। সীমা বাড়ানো হলে বেশি দামের প্যাকেজ কেনার সুযোগ তৈরি হবে।

বিটিআরসির নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নিলে সেবা ফি ২ টাকা। করসহ এই ফি দাঁড়ায় ২ টাকা ৭৮ পয়সা।

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক সময় গ্রাহকের নেওয়া ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিয়ে প্রয়োজনীয় প্যাকেজ কেনা সম্ভব হয় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো প্যাকেজের দাম ৩১০ টাকা হলে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা ব্যালান্স দিয়ে সেটি কেনা যাবে না। সীমা ৫০০ টাকা করা হলে গ্রাহকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি দামের প্যাকেজও কিনতে পারবেন।

দেশে মোবাইল সেবা দিচ্ছে চারটি অপারেটর—গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটক। বিটিআরসির হিসাবে, চার অপারেটরের মোট গ্রাহকসংখ্যা ১৯ কোটির বেশি।

শুরুতে জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকদের সামান্য পরিমাণ ব্যালান্স দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ সেবা চালু করা হয়। ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসি নির্দেশ দিয়েছিল, গ্রাহকদের অন্তত ১০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিতে হবে এবং এ জন্য কোনো চার্জ নেওয়া যাবে না। একই বছরের ২ জুলাই অপারেটরদের সঙ্গে এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স চার্জমুক্ত থাকবে। এর বেশি অঙ্কের ক্ষেত্রে সেবা ফি নেওয়া যাবে।

বর্তমানে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দেয়। এতে করসহ ফি ২ টাকা ৭৮ পয়সা। অন্যদিকে, টেলিটক সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স দেয়, যার সেবা ফি করসহ ৬ টাকা ৯৫ পয়সা।

অপারেটরগুলোর দাবি, ইমার্জেন্সি ব্যালান্স এখন শুধু টাকা ধার দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর আওতায় মিনিট লোন, ডেটা লোন, ‘বাই নাও পে লেটার’ এবং বিভিন্ন প্যাকেজ কেনার সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। এসব সেবায় গ্রাহক আগে ব্যবহার করেন, পরে টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তী রিচার্জ থেকে বকেয়া টাকা ও প্রযোজ্য ফি কেটে নেওয়া হয়।

মোবাইল অপারেটর সূত্রের দাবি, চার অপারেটর মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ লাখ গ্রাহক ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নেন। তবে এই ঋণের অর্থ সরাসরি অপারেটরগুলো দেয় না; তাদের সঙ্গে অংশীদারত্বে থাকা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ অর্থ সরবরাহ করে। ফলে ব্যালান্সের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব গ্রাহকদের সুবিধার পাশাপাশি ঋণসেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয় হিসেবেও আলোচনায় এসেছে।

ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রথমে দেয় গ্রামীণফোন। ২০২৬ সালের ৩ মার্চ বিটিআরসিকে চিঠি দিয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স দেওয়ার অনুমতি চায় অপারেটরটি। এ জন্য সর্বোচ্চ ২০ টাকা ফি রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। গ্রামীণফোনের যুক্তি ছিল, বেশি দামের প্যাকেজ কেনা এবং জরুরি সময়ে যোগাযোগসেবা চালু রাখতে গ্রাহকদের আরও বেশি ব্যালান্স প্রয়োজন।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে ডেটা ব্যবহার ও ডিজিটাল সেবার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এবং তুলনামূলক বেশি ডেটা ব্যবহার করা গ্রাহকদের জন্য বিদ্যমান ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নয়। সীমা বাড়ানো হলে তা গ্রাহকদের বর্তমান ব্যবহারধারা ও যোগাযোগের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

তবে গ্রামীণফোনের এই প্রস্তাবে অন্য অপারেটরগুলো আপত্তি জানায়। গত ২১ জুন বিটিআরসির সঙ্গে এক সভায় তারা জানায়, একক অপারেটরের জন্য এ ধরনের সুবিধা অনুমোদন করা হলে প্রতিযোগিতায় অসমতা তৈরি হতে পারে এবং অনাদায়ি অর্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরে বিটিআরসি সব অপারেটরের জন্য অভিন্ন প্রস্তাব তৈরি করতে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবকে দায়িত্ব দেয়।

৫০০ টাকা সীমায় ঐকমত্য, ফি নিয়ে মতভেদ

চলতি বছরের ২৩ জুলাই অ্যামটব বিটিআরসির কাছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দেওয়ার প্রস্তাব জমা দেয়। প্রস্তাবে ১০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সে কোনো ফি না রাখা, ১০ থেকে ২০০ টাকায় ২ টাকা এবং ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় সর্বোচ্চ ১৫ টাকা ফি নির্ধারণের কথা বলা হয়।

পরে ২০ আগস্ট বিটিআরসি ও অ্যামটবের সভায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ টাকা ফি রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

অ্যামটব সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটক এ প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। তবে বাংলালিংক ব্যালান্সের পরিমাণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।

বাংলালিংকের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০ টাকা ব্যালান্স নিলে ২ টাকা, ২১ থেকে ৫০ টাকায় ৩ টাকা এবং ১৫১ থেকে ২০০ টাকায় ৬ টাকা ফি নেওয়া হবে। আর ৪০১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স নিলে ফি হবে ১০ টাকা।

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ২০০ টাকার কম ব্যালান্স নেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু গ্রাহককে বর্তমানের তুলনায় বেশি ফি দিতে হতে পারে। কারণ, বর্তমানে ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের জন্য সেবা ফি মাত্র ২ টাকা।

বর্তমান ব্যবস্থায় ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নিলে করসহ ২ টাকা ৭৮ পয়সা ফি দিতে হয়। একই হারে কর যোগ করে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সের জন্য ১০ টাকা সেবা ফির সঙ্গে কর যুক্ত হলে মোট ফি দাঁড়াতে পারে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা।

তবে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও এটি এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। বিটিআরসির অনুমোদন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই নতুন সীমা ও ফি কাঠামো সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।