এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : দেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে। মোট অনুমোদিত ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন। এসব শূন্য পদ পূরণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের কার্যপত্রে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, শাহজাহান চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার রানু ও নূরুল ইসলাম বুলবুল অংশ নেন।
কার্যপত্রে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, এর অধীন দপ্তর-সংস্থা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে শূন্য পদ পূরণে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ সময়ে পূরণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬১টি পদ।
বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও তাদের অধীন কার্যালয়গুলোতে মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪১ হাজার ৭৫৫টি। এর মধ্যে কর্মরত জনবল ২৭ হাজার ১৭৭ জন। ফলে এসব কার্যালয়ে শূন্য রয়েছে ১৪ হাজার ৫৭৮টি পদ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব জনবলেও শূন্য পদের তথ্য উঠে এসেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ৬২৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৫০৫ জন। শূন্য রয়েছে ১২৪টি পদ।
বৈঠকে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদলি এবং সরকারি কাজে অসহযোগিতা ও অবহেলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
তবে শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয় বলে মত দেন বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা।
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত বা প্রশাসনিক কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা কমিটির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন সভাপতি। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ধীরগতির প্রকল্পগুলোর কারণ অনুসন্ধান এবং সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে কমিটি।