এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ছেলে নজরুল ইসলামের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল বাবা আবদুল বাছিরের। ফোনে ছেলে জানিয়েছিল, সে সমস্যার মধ্যে রয়েছে। তবে কী ধরনের সমস্যায় পড়েছে, তা বিস্তারিত বলেনি। এর কয়েক দিন পর গণমাধ্যমের খবরে বাবা জানতে পারেন, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তার ছেলের।
এখন ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুল আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা।
নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড়। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ২০২২ সালে সাত লাখ টাকা ঋণ করে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল।
পরিবারের ভাষ্য, সৌদি আরবে যাওয়ার এক মাস পর মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পান নজরুল। তবে সাত-আট মাস পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে ফোন করে নজরুল জানান, তিনি বন্দি রয়েছেন। কিন্তু কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানাননি তিনি।
নজরুলের বাবা আবদুল বাছির বলেন, ‘প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে আমার ছেলে কারাগারে ছিল। গত রোববার সে আমাকে ফোন দিয়েছিল। বলেছিল, সে সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এটাই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কথা। এরপর গত বুধবার জানতে পারি, আমার ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।’
আবদুল বাছিরের অভিযোগ, কারাগারে থাকার সময় তিনি ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না। কিন্তু নজরুল জানিয়েছিলেন, কেউ যোগাযোগ করেননি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তিনি আইনজীবীর সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
নজরুলের বাবা বলেন, ‘প্রতিটি দেশের কনস্যুলেট কারাগারে থাকা নিজ দেশের নাগরিকদের খোঁজখবর নেয়। অথচ আমাদের দেশের কনস্যুলেট থেকে আমার ছেলের কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি বলে সে জানিয়েছিল। আমার ছেলের মতো আর কেউ যেন এভাবে মারা না যায়। বিদেশে কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’
ছেলেকে হারিয়ে আর্থিক সংকটেও পড়েছেন আবদুল বাছির। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে নেওয়া ঋণের বোঝা এখনো তার পরিবারের ওপর রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে গেল, সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমার ছেলের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।’
পরিবারের দাবি, নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তারা আগে থেকে কিছুই জানতে পারেনি। গণমাধ্যমের খবর থেকেই বিষয়টি জানতে পারে তারা। ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভূমিকা এবং নজরুলের আইনি সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরলে ভুক্তভোগী পরিবারকে সহায়তা করা হবে।
নজরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে- এমন প্রত্যাশা এখন স্বজনদের।