এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : চলতি বছরেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম বেতনকাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। এবার সেই পে-স্কেলের আওতায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আনার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। সে অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। তবে কবে নাগাদ তারা নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে, একাধিক সূত্রের দাবি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পৃথক গেজেট জারির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন দেওয়ার বিষয়টি আরো জোরালো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সূত্রের তথ্যে। মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেল পাবেন।
মহাপরিচালক আরো বলেন, এ ক্ষেত্রে হয়তো কিছুটা দেরি হতে পারে। তবে শিক্ষকেরাও নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে দ্রুত নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পান, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। প্রক্রিয়াগত কারণে কিছুটা দেরি হলেও শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক গেজেট দ্রুত জারি করা হয়েছিল। তবে তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করতে প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছিল। ফলে এবারও কিছুটা সময় লাগছে। তবে অষ্টম পে-স্কেলের মতো এবার এত দীর্ঘ সময় লাগবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এ সুবিধা চালুর চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বরে সম্ভব না হলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে তা বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, নতুন পে-স্কেলের আওতায় এমপিওভুক্ত ৬ লাখ ২ হাজার ৩৫৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে আনতে অতিরিক্ত ১৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। বাকি অর্থ পেনশন খাতে প্রয়োজন হবে।