এমটিনিউজ ডেস্ক : দফায় দফায় বাড়ছে এলপি গ্যাসের দাম। এরপরও নির্ধারিত মূল্যে মিলছে না এই জ্বালানি। এমন পরিস্থিতিতে আবারও বিভিন্ন চার্জ ও দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। সব মিলিয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার দাবি তাদের। এ আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টার দাবি, ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপর গণশুনানি আয়োজন ভোক্তা স্বার্থের পরিপন্থি।
দফায় দফায় দাম বাড়ার পর বর্তমানে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু এ দামেও নিত্যপ্রয়োজনীয় এই জ্বালানি পাওয়া কঠিন। স্থানভেদে গ্রাহকদের ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, তারা কখনোই সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস পান না। বর্তমানে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়েও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
তাদের দাবি, কোনো পণ্যের দাম একবার বাড়লে তা আর কমে না। দাম কমলেও সেই সুবিধা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছায় না। সরকার দাম কমালে বিক্রেতারা আগের দামে কেনা পণ্যের অজুহাত দেন, আর দাম বাড়লে বলেন, বেশি দামে কিনতে হয়েছে।
এলপি গ্যাসের বাজারে এমন অস্থিরতার মধ্যেই আবারও বিভিন্ন চার্জ ও দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এলপিজি আমদানিতে জাহাজভাড়া, সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণসহ বিভিন্ন খরচ দুই থেকে তিন গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কয়েকটি কোম্পানি।
সব মিলিয়ে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের নির্ধারিত দাম ৩০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার দাবি জানিয়েছে আমদানিকারকদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। একই সঙ্গে পরিবেশক পর্যায়ে ১০০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে কমিশন ২০ টাকা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটররা।
লোয়াবের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, পরিবহন খরচ বেড়েছে। ডিজেল দিয়ে জাহাজে জ্বালানি সরবরাহের ব্যয়ও বেড়েছে। এ ছাড়া পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের খরচও বেড়েছে। সব খরচ বিবেচনায় নিয়ে যুক্তিসংগত সমন্বয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু তাহের বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় বিস্ফোরক লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্সের পাশাপাশি টিআইএন, ভ্যাট নিবন্ধন এবং সরকারি কর পরিশোধ করতে হয়। এসব খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যয়ও বেড়েছে। এ কারণে দাম বাড়ানোর দাবি যুক্তিসংগত।
এর আগে, চলতি মাসের মাঝামাঝি ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিলেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপর গণশুনানি আয়োজন করা হচ্ছে। এতে ভোক্তাদের স্বার্থ কতটা রক্ষা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলপি গ্যাসের বাজারে বিভিন্ন সময়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতা অনেক পক্ষের কাছে দাবি আদায়ের সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়। এবারও ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাবগুলো কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, খুচরা বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের হুমকির মুখে তাদের চার্জ বাড়ানোর আবেদনের ওপর বিইআরসির গণশুনানি আয়োজনের বিষয়টি বিস্ময়কর। এ ধরনের ভূমিকার কারণে ভোক্তাদের জ্বালানি অধিকার বিপন্ন হচ্ছে এবং তারা জ্বালানি খাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এলপি গ্যাসের বিভিন্ন চার্জ ও দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার গণশুনানি করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। শুনানি শেষে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করা হতে পারে।