রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৫৫:৩১

কী করা হবে শেখ হাসিনাকে ফেরত পেলে, জানালেন আইনমন্ত্রী

কী করা হবে শেখ হাসিনাকে ফেরত পেলে, জানালেন আইনমন্ত্রী

এমটিনিউজ ডেস্ক : ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের আদালতে বিচার শেষে সাজাপ্রাপ্ত হওয়াই রাষ্ট্রের কাছে শেখ হাসিনার পরিচয়। 

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তাকে ফেরত পাওয়া গেলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আবেগ নয়, আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে হোটেল হলিডে ইনে ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

অনুষ্ঠান শেষে এক সাংবাদিক জানতে চান, ভারতে শেখ হাসিনাকে বন্দি হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে রাখা হয়েছে। জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার কাছে উনি অপরাধী। আমাদের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী। এটা হলো আমাদের কাছে তার পরিচয়।’

ভারত শেখ হাসিনাকে কীভাবে বিবেচনা করছে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা তারা কী বলছেন, তাদের বললে তো হবে না। আমার রাষ্ট্রের কাছে ওপেন আদালতে বিচার হয়েছে।’

এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনারা যখন এই প্রশ্নটা করছেন, তাহলে তার আগে চিন্তা করেন আপনারা ১৪০০ মানুষ কি মারা যায়নি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে? ৩০ হাজার মানুষ কি পঙ্গু হয়নি? ন্যায়বিচারে কোনো রকম ঘাটতি রাখা হয়েছে? বিচার প্রক্রিয়ায় কি আমরা ক্যামেরা ট্রায়াল করেছি? সাক্ষী কি সাক্ষী দেয়নি?’

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, তার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করণীয়, সরকার যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা করছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করণীয়, সেটা আমরা ডিউ প্রসেসে করছি। সেখানে আমাদের আইনসংগতভাবে ডিল করা হবে। আমরা যখন কোনো পদক্ষেপ নেব, এখানে ইমোশনের কোনো বিষয় নেই। বিষয়টা হলো আমি আমার আইনটাকে প্রয়োগ করব।’

ভারত সরকারের কাছে পাঠানো অনুরোধের বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটা ভারত সরকারের ব্যাপার। এক্সট্রাডিশন চুক্তির আওতায় আমরা তাদের কাছে রিকোয়েস্ট করেছি। তারা আমাদেরকে হ্যান্ডওভার করলে আমরা তাকে ডিউ প্রসেসে যেভাবে আইনের আওতায় সোপর্দ করা দরকার, সেভাবে করব।’

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার নতুন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কি না, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এ সংক্রান্ত সব উদ্যোগ ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে।

অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় অধস্তন আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর তার বিরুদ্ধে আরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যখন সাময়িক বরখাস্ত হয়েছে, নিশ্চয়ই এটা ডিউ প্রসেসেই আছে। যখন এটা সমাপ্ত হবে, হয় তার বরখাস্ত প্রত্যাহার হবে; অথবা যেটা কনসিকোয়েন্স আছে, সেটা হবে।’

আগামী ১৯ মে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। মানচিত্রদেখুন

তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার। আদালতের সামনে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে যদি গণহত্যা প্রমাণিত হয়, নিশ্চয়ই তার বিচার হবে। এটাই চায় বাংলাদেশ।’

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।